kalerkantho


নিউ ইয়র্কে স্থায়ী শহীদ মিনার হচ্ছে

চলছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তুতি

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মহান ভাষা আন্দোলনের স্মারক দিন একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটি স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হলেও এখনো তা হয়নি পৃথিবীর রাজধানীখ্যাত নিউ ইয়র্কে। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অনেক দিন ধরেই এ দাবি জানিয়ে আসছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার ক্যাপ্টেন টিলি পার্কে একটি স্থায়ী স্মারক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশিরা চায়, স্মারক পার্ক নয়, শহীদ মিনারই হোক।

নিউ ইয়র্কে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য জ্যামাইকা-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। সংগঠনটি পাঁচ বছর আগে নিউ ইয়র্কে অন্যতম প্রশাসনিক অঞ্চল কুইন্সবোরোর প্রেসিডেন্টের কাছে দাবিটি জোরালোভাবে তুলে ধরে। তখন বোরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কেটজ কুইন্সবোরোতে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণে বাংলাদেশিদের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন মেলিন্ডা কেটজ। বোরো প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত তিনি। ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

তবে শোনা যাচ্ছে, ঠিক শহীদ মিনারের আদলে নয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কথা মাথায় রেখে পার্কে এক ধরনের স্মারক নির্মাণ করা হবে। এর নাম হবে ‘কমেমোরেটিভ গার্ডেন অ্যান্ড পার্ক’ (স্মারক বাগান ও উদ্যান)। কিন্তু প্রবাসীরা সেখানে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে ভাষা স্মারক নির্মাণের দাবি তুলেছে। তাদের এই দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা। দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই গত ১২ জুলাই কুইন্সবোরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কেটজের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের পক্ষে নিজের জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। কালের কণ্ঠকে কনসাল জেনারেল বলেন, ‘আমাদের আশা মহান ভাষা আন্দোলনের যে অর্জন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হবে।’   

জ্যামাইকা-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এফ মিসবাহ উজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁরা কোনো ভাষা স্মারক পার্ক নয়, শহীদ মিনারই চান।

স্থানীয় কাউন্সিলম্যান ররি ল্যান্সম্যান বলেছেন, ‘আমিও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবির সঙ্গে একমত।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি ও টেক্সাসে দুটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হলেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন, ব্রংকস, ম্যানহাটানসহ বিভিন্ন বোরোতে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে নিউ ইয়র্কে প্রবাসীরা মহান একুশে পালন করে আসছে।

মাতৃভাষা দিবস পালনে বাংলাদেশিদের প্রস্তুতি : এদিকে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট অফিস এবার কুইন্স লাইব্রেরির সঙ্গে যৌথভাবে বড় ধরনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তাতে সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।



মন্তব্য