kalerkantho


আইসিসিবিতে ফুড অ্যান্ড হসপিটালিটি এক্সপো

দর্শনার্থীর পদচারণে মুখর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



দর্শনার্থীর পদচারণে মুখর

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরা সিটিতে চলছে তিন দিনব্যাপী ‘ফুড ও আতিথেয়তা মেলা’। গতকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের মানুষ অতিথিপরায়ণ—এ স্বীকৃতি বিশ্বজুড়ে। ‘অতিথি ঘরের লক্ষ্মী’, ফলে আতিথেয়তায় নেই কোনো কার্পণ্য। এ ছাড়া দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমুদ্রসৈকত, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট পর্যটনকেন্দ্রসহ বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। কিন্তু এত কিছু থাকার পরও বিদেশি পর্যটকের ভ্রমণ আনন্দময় করার পর্যাপ্ত উদ্যোগের ঘাটতি আছে। ফলে দেশের সম্ভাবনায় পর্যটনশিল্প কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না বলে মনে করছে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘ফুড অ্যান্ড হসপিটালিটি বাংলাদেশ এক্সপো-২০১৯’তে ঘুরতে এসে এমনটাই জানালেন উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালি কানিজ খান কান্তা।

সঙ্গে ছিল কলেজপড়ুয়া দুই সন্তান রিয়াজ খান ও রুমেনা খান। ছোটবেলা থেকেই দেশের বাইরে বড় হলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তাদের রয়েছে বেশ আগ্রহ। দেশের শিল্প-সংস্কৃতি বিশ্বসেরা বলে মনে করে তারা। তবে প্রয়োজন সুন্দর এই দেশটাকে ভালো করে বহির্বিশ্বে তুলে ধরা। কেননা এই দেশে অনেক কিছুই আছে, যা বিদেশি পর্যটককে আকর্ষণ করে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে তা পিছিয়ে পড়ছে।

এদিকে গতকাল ছুটির দিনে ব্যতিক্রমী এই মেলা ঘুরে দর্শনার্থীর পদচারণে বেশ মুখর দেখা যায়। খাদ্যপণ্যের বিভিন্ন স্টলে দেখা গেছে ভিড়। কেউ কিনছে, কেউ কেউ দেশের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের ব্যাপারে উৎসাহ নিয়ে জানছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা নিয়ে জানতে তাদের আগ্রহের কমতি ছিল না।

প্রদর্শনীতে আকর্ষণীয় ক্রোকারিজ পণ্য নিয়ে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল হোমওয়্যার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র একটি বড় ভূমিকা রাখে। তাই আমরা কিছু কারুকাজসম্পন্ন তৈজসপত্র নিয়ে এসেছি মেলায়। এসব পণ্য খাবারের সৌন্দর্য বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রান্নাবান্নায় সময়ও সাশ্রয় করবে। উল্লেখযোগ্য পণ্যগুলো হলো কেক ফ্রিজার, ফুড মিকশ্চার, মিল্ক শেকার, ইলেকট্রিক পাস্তা কুকার, ইলেকট্রিক কাবাব মেশিন ইত্যাদি। 

দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বড় হোটেলগুলো তাদের আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট সুবিধা দিচ্ছে। সিগাল হোটেল লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ তামিম আহমেদ বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে মাত্র দুই হাজার ৭৫০ টাকায় এক রাত এবং দুই দিন থাকার সুবিধা দিচ্ছি আমরা। সঙ্গে এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ, রেস্টুরেন্টে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্টসহ অন্য সব সুবিধা।’

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ভারত, মালয়েশিয়া, মেসিডোনিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, ইতালি ও স্পেন থেকে সাতটি দেশের এক্সিবিটর, ১৫০টি ব্র্যান্ড, ২০০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং ৫০ জন হোস্টেড বায়ার অংশ নিচ্ছেন।

দেশের পর্যটনশিল্পকে ভিন্ন মাত্রা দিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো এই ফুড অ্যান্ড হসপিটালিটি বাংলাদেশ এক্সপোর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) এবং ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেড।



মন্তব্য