kalerkantho


ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষকে হত্যা লুটের জন্যই

দুজনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করতেই ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তাঁরা হলেন এজাহারনামীয় আসামি রিতা আক্তার ওরফে স্বপ্না (৩৫) ও রুনু আক্তার (৪৫)। তবে এ ঘটনার অন্য এজাহারভুক্ত আসামি রেশমা এখনো ধরা পড়েননি। গ্রেপ্তার দুজনকে আজ শনিবার আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানাবে পুলিশ।

রাজধানীর নিউ মার্কেট থানায় গতকাল শুক্রবার রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, লুট করতেই অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃতরা। গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা এই হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাঁরা মাহফুজা চৌধুরীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

ডিসি মারুফ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ওই বাসায় কাজ নেওয়ার সময় স্বপ্না ও রেশমা ভুয়া ঠিকানা ও পরিচয় দিয়েছিলেন। তাই স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। রেশমাকে গ্রেপ্তার করতে পারলে এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। রেশমাও নিহতের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, এজাহারনামীয় আসামি স্বপ্না ওরফে রিতা আক্তারকে নেত্রকোনার মদন থানার নিজ গ্রাম ফতেপুর থেকে গতকাল ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সোনার চেন, সাত হাজার টাকা ও মাহফুজা চৌধুরীর ব্যবহৃত ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। স্বপ্না নিহতের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো। প্রাথমিকভাবে সে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

স্বপ্না পুলিশকে বলেছে, মাহফুজাকে হত্যার পর তারা দুজন লিফটে নিচে নেমে আসে। তারা প্রথমে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় যায়। সেখান থেকে সে একটি অটোরিকশা নিয়ে গাবতলীতে চলে যায়। আর রিকশায় করে রেশমা কোথায় যায় তাকে জানায়নি।

এদিকে আরেক অভিযানে গতকাল দুপুরে রুনু ওরফে রাকিবের মাকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাকিবের মা ওই এলাকার বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী সরবরাহ করতেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাহফুজা চৌধুরী গৃহকর্মীদের নাম-ঠিকানা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। তাঁদের ছবিও রাখতেন তিনি। তবে তাঁকে হত্যার পর ডায়েরির ভেতর থেকে রেশমা ও স্বপ্না তাঁদের ছবি এবং ঠিকানা লেখা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যান। তাঁরা মাহফুজা চৌধুরীর মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যান।

তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, রেশমাকে গ্রেপ্তারে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে নিজ বাসায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি খুন হন মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। হত্যাকাণ্ডের পর দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমা পালিয়ে যান।

এ ঘটনার পরদিন সোমবার সকালে নিহতের স্বামী ইসমত কাদির গামা বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় মামলা করেন।



মন্তব্য