kalerkantho


অর্থায়নে একক সিদ্ধান্ত নেবে ইউএনডিপি

‘জটিলতা কমবে, বাড়বে কাজের গতি’

আরিফুর রহমান   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার আসছে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যাবলিতে। সংস্থার সদস্য দেশগুলোয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি আর মানবাধিকারের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত এই সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে এরই মধ্যে। এ সংস্কার কার্যক্রমের ঢেউ বাংলাদেশেও এসে লেগেছে।

এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। তারা স্বাধীনভাবে কোনো প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে যাবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে কাজে গতি আসবে বলেও মনে করেন তাঁরা।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে গতি আনতেই যে এই সংস্কারের উদ্যোগ সম্প্রতি ইআরডি সচিবের কাছে পাঠানো জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের এক চিঠিতেও তার উল্লেখ রয়েছে।

ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মোট ১৭টি সংস্থা কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে ইউএনডিপি, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), জাতিসংঘ জরুরি শিশু তহবিলসহ (ইউনিসেফ) অন্যতম। বাংলাদেশে এই সংস্থাগুলোকে সমন্বয় করে আসছিল জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়ক (ইউএনআরসি)। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্য নীতিকৌশল প্রণয়ন, অর্থছাড়সহ যেকোনো সিদ্ধান্ত এত দিন আসত ইউএনআরসি থেকে। সংস্থাগুলো নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউএনআরসি থেকে ইউএনডিপিকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পদটি এখন থেকে হবে রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ বা আবাসিক প্রতিনিধি। অর্থাৎ বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি এখন থেকে সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবেন। কর্মসূচি গ্রহণ, নীতিকৌশল প্রণয়ন কিংবা অর্থছাড়সহ যেকোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারবেন।

ইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতিসংঘের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইউএনডিপিকে স্বতন্ত্র করা হয়েছে। এতে কাজে গতি আসবে।’

বাংলাদেশের জন্য প্রতি চার বছর পর কর্মকৌশল প্রণয়ন করে থাকে ইউএনডিপি। সর্বশেষ ২০১৭-২০ মেয়াদি কর্মকৌশলের আওতায় বাংলাদেশকে ১২০ কোটি ডলার বা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা করার কথা রয়েছে সংস্থাটির। পরবর্তী চার বছরে (২০২০-২৪) বাংলাদেশের জন্য সংস্থাটির অর্থায়ন আরো বাড়বে। ইউএনআরসি থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ইউএনডিপির কাজ করা সহজ হবে। সংস্থাটি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে করে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অর্থ সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে বলে মনে করেন ইআরডির এক কর্মকর্তা।

এ সংস্কারের কারণ হিসেবে ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ বছর মেয়াদি এসডিজি বাস্তবায়ন সফল করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে জাতিসংঘ। সদস্য দেশগুলো যাতে এসডিজি মসৃণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, সেজন্য এই সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া। এসডিজির যে ১৭টি অভিষ্ঠ আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইউএনডিপি। সে কারণে বিশ্বব্যাপী ইউএনডিপিকে ইউএনআরসি থেকে আলাদা করা হয়েছে। যাতে করে সংস্থাটি নিজেদের মতো করে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতেই জাতিসংঘের এমন সিদ্ধান্ত।

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এসংক্রান্ত এক ঘোষণায় বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে একটি আলাদা তহবিল গঠন করা হবে। জাতিসংঘকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করতেই ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিভাগ, আঞ্চলিক কার্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে এসব সংস্কারের প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘে নতুন আরো চারটি সংস্থা চালুর ঘোষণা দেন গুতেরেস।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যাবলি সংস্কার বিষয়ে সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের চিঠিটি গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইআরডি পেয়েছে।

ওই চিঠিতে মাসুদ জানান, গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ সংস্কার পরিকল্পনার রেজল্যুশন গৃহীত হয়। এ রেজল্যুশনের ওপর ভিত্তি করে সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এসডিজি অর্জনে বিভিন্ন সংস্থাকে কৌশলগত ও অন্যান্য বিষয়ে উপযোগী করে গড়ে তোলা এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ যেসব সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, এতে করে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সাধন হবে।



মন্তব্য