kalerkantho


তুমব্রু সীমান্তে বিজিপির ব্যাপক গুলিবর্ষণ

বিজিবির প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গতকাল মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেছে। কক্সবাজারের উখিয়ার পাশের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিপি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে সীমান্ত এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২০ মিনিটে ২০০-৩০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে সীমান্তের লোকজন জানিয়েছে।

তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, বিজিপি ১২০-১২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে। সীমান্তে আকস্মিক কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এ রকম গুলিবর্ষণ করেছে সেটা বলতে পারেনি বিজিবি।

তবে অনেকেই বলছে, এটা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উসকানিমূলক আচরণ।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমদ কালের কণ্ঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তুমব্রু সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গতকাল ভোরবেলায় ১২০-১২৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়েছে। কী কারণে এ গুলিবর্ষণ করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।’ তিনি বলেন, এ ঘটনার পরপরই তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। সেই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 

তুমব্রু শূন্যরেখায় বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা দীল মোহাম্মদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যখন ঘুমে ছিলাম, সেই ভোর সাড়ে ৪টায় আকস্মিক তুমব্রু মাইক পাহাড়ের বিজিপি ক্যাম্প থেকেই প্রথম গুলিবর্ষণের শব্দ শুনতে পাই। এরপর শুনি, সীমান্তের সব বিজিপি ক্যাম্প থেকে শুধু গুলি আর গুলির শব্দ।’

দীল মোহাম্মদ জানান, তাঁর ধারণা, ২০ মিনিটে ২০০-৩০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর চারটি স্থায়ীসহ ১৫টি বিজিপি ক্যাম্প রয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাত্র চার-পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে এসব ক্যাম্প। তাঁর দাবি, বিজিপির স্থায়ী ক্যাম্পগুলো থেকে

ভারী অস্ত্রের গোলাও বর্ষণ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন চালায়। সে সময়ে প্রাণ বাঁচাতে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।



মন্তব্য