kalerkantho


সেই পোশাক খাতই এখন পরিবেশ ছাড়পত্র চায়!

আরিফুর রহমান   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



কারখানা প্রতিষ্ঠার আগে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৈরি পোশাক খাতের ছাড়পত্র নেওয়া থেকে অব্যাহতি নেন মালিকরা। পোশাক খাতের মালিকরাই এখন চাইছেন পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে। কারণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা পণ্য কেনার আগে পরিবেশ ছাড়পত্র দেখতে চাইছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রানা প্লাজা ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পর থেকেই বিদেশি ক্রেতারা কারখানার কর্মপরিবেশ দেখতে চায়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, “ডায়িং ও ওয়াশিং কারখানার ব্যবসায়ীরা প্রায় আমাদের কাছে ছাড়পত্রের জন্য আসেন। আমরা তাদেরকে আমাদের আইনগত অসহায়ত্বের কথা বলি। তাদের অনুরোধে আলাদা একটি চিঠি লিখে দিই যে ‘পোশাক খাত ছাড়পত্র নেওয়া থেকে অব্যাহতি নিয়েছে’। অবশ্য তারা এখন সংশোধিত পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় পোশাক খাতের জন্য ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক আবার ঢোকানোর প্রস্তাব করেছে। আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি।”

তবে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাত পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়া থেকে অব্যাহতি নিয়েছে। কারণ আমরা পরিবেশ দূষণ করি না।’ তবে এখন কেন আবার ছাড়পত্র চাইছেন—এ প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, পোশাক খাতের কারখানা নির্মাণে অবস্থান ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয় না। কারণ পোশাক খাতের কারখানা কোনোভাবেই পরিবেশ দূষণ করে না। সে কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজনও হয় না।

ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে একমত নন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অবস্থান ছাড়পত্র নিলে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখেশুনে অনুমতি দেওয়া যেত। সেটি না হওয়ায় এখন যত্রতত্রভাবে কারখানা গড়ে উঠছে। কারখানার বর্জ্য পড়ছে নদীতে, ড্রেনে। যত্রতত্র পোশাক কারখানা গড়ে ওঠায় দেখা দিচ্ছে যানজট। যানবাহনের পথ আগলে কর্মীরা রাস্তা পার হয়। কেউ কেউ দুর্ঘটনারও শিকার হয়। অনেক স্থানে জেনারেটরের উচ্চ শব্দে শব্দদূষণ হচ্ছে। অনেক কারখানা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পসহ বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের অবস্থান ও পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করতে হয়। পোশাক খাতের কারখানা নবায়নও করতে হয় না। এক কর্মকর্তা বলেন, পোশাক খাতের মালিকরা যে যুক্তি দেখান, এটা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ সাভারের রানা প্লাজা ভবনধস হয়েছিল জেনারেটরের কারণে। তারা যদি নজরদারির মধ্যে না থাকে, তাহলে এক ধরনের হেঁয়ালিপনা ও খামখেয়ালি মানসিকতা তৈরি হয়, যা খুবই বিপজ্জনক।

পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের পাল্টা বক্তব্য হচ্ছে, অবস্থান ছাড়পত্রের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে গেলে অনেক সময় অপচয় হয়। নানা ধরনের তথ্য চাওয়া হয়। হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।



মন্তব্য