kalerkantho


শিক্ষা জরিপ ২০১৮ চূড়ান্ত

মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার আরো কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



২০১৮ সালে মাধ্যমিকে ঝরে পড়েছে ৩৭.৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালের সঙ্গে তুলনা করলে ঝরে পড়ার হার খুব সামান্যই কমেছে। কারণ ২০১৭ সালে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৭.৮১ শতাংশ। ফলে গত এক বছরে ঝরে পড়া কমেছে দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে গত ১০ বছরের সঙ্গে তুলনা করলে মাধ্যমিকে ঝরে পড়ার হার কমেছে ২৩.৭৬ শতাংশ।

গতকাল রবিবার বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস ২০১৮’ চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। 

শিক্ষাবিদরা বলছেন, মাধ্যমিকেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো মেয়েদের বাল্যবিয়ে, ছেলেদের ক্ষেত্রে পরিবারের অনীহা বা কাজে লাগিয়ে দেওয়া। এ ছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে দুর্বোধ্য সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতির কারণেও অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। সরকারি হিসাবেই দেখা যায়, ৪২ শতাংশ শিক্ষক নিজেরা সৃজনশীল প্রশ্ন করতে পারেন না। এখন যদি শিক্ষকরাই সৃজনশীল না বোঝেন, তাহলে তাঁরা শিক্ষার্থীদের কিভাবে পড়াবেন?

কর্মশালার পরিসংখ্যানে বলা হয়, ২০১০ সালে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল ৫৫.২৬ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে ছিল ৫৭.২৯ শতাংশ এবং মেয়ে ৫৩.৫৭ শতাংশ। ২০১১ সালে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল ৫৩.২৮ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬.৭৩ শতাংশ এবং মেয়ে ৫৬.৪৩ শতাংশ। ২০১২ সালে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল ৪৪.৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে ছিল ৩৪.৯ শতাংশ এবং মেয়ে ৫২.৩৬ শতাংশ।

২০১৭ সালে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ছিল মোট ৩৭.৮১ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে ছিল ৩৩.৪৩ শতাংশ এবং মেয়ে ৪১.৫২ শতাংশ। ২০১৮ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৭.৬২ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলে ছিল ৩৬.০১ শতাংশ এবং মেয়ে ৪০.১৯ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে বলা হয়, সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সাল নাগাদ মাধ্যমিকে ঝড়ে পড়ার হার ২০.১৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। এর আগে ২০২৫ সালে ২৬.৮৩ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৩৩.৫০ শতাংশে কমিয়ে আনা।

কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা ক্রমান্বয়ে ভালো করছে। শিক্ষাবিষয়ক তথ্য সঠিকভাবে সন্নিবেশ, তথ্যের বিশ্লেষণ এবং সঠিক কাজে লাগানোর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তথ্যকে কাজে লাগানো হবে।

ব্যানবেইসের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন এবং করিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর।



মন্তব্য