kalerkantho


সোনালী ব্যাংকের গোপালগঞ্জ শাখায় অর্থ আত্মসাৎ

৮ কর্মকর্তার যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় গোপালগঞ্জ সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার প্রধান ক্যাশিয়ারসহ আট ক্যাশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালত। গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিচারক মো. মতিয়ার রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মজিবর রহমান জানান, সোনালী ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখার পেনশনহোল্ডার ও ভুয়া পেনশনহোল্ডারদের নাম দেখিয়ে ৪৭ লাখ দুই হাজার ৬২৮ টাকা ৩৮ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে ওই শাখার তৎকালীন হেড ক্যাশিয়ার (বর্তমানে বরখাস্ত) শওকত হোসেন মোল্লাসহ আট ক্যাশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

আদালত এ মামলার প্রধান আসামি শওকত হোসেন মোল্লাকে ব্যাংকে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি টাকা আত্মসাতের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৪৭ লাখ দুই হাজার ৬২৮ টাকা ৩৮ পয়সা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জাল-জালিয়াতির দায়ে আদালত শওকত হোসেনকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালত অন্য সাত আসামিকে ১৮ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরো এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এই আসামিরা হলেন—সোনালী ব্যাংক ওই শাখার সাবেক ক্যাশিয়ার অমল চন্দ্র বিশ্বাস, এইচ এম সিদ্দিকুর রহমান, মঞ্জুরুল হক, মোশারফ হোসেন মোল্লা, গোলাম মো. মুন্সি, দীলিপ কুমার মণ্ডল ও ইউসুফ আলী খন্দকার। মামলা দায়েরের পর মোশারফ ছাড়া সবাই বরখাস্ত হন।

রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি শওকত হোসেন ছাড়া আর সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শওকত হোসেন গ্রেপ্তার হলেও মামলা চলাকালে জামিন নিয়ে পালিয়ে যান। রায় ঘোষণার পর পরই সাজাপ্রাপ্তদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, টাকা আত্মসাতের ওই ঘটনায় ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ওই ব্যাংক শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক আব্দুস সোহবান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করেছেন দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক আবুল বাশার। মামলার তদন্তকালে দুই আসামি পরিমল বিশ্বাস ও খবিরউদ্দিন মারা যান।



মন্তব্য