kalerkantho

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের জের

থানায় মামলা, পাচারকারীকে শনাক্ত করল দুই স্কুলছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কক্সবাজারের রামু উপজেলার দুই স্কুলছাত্রকে পাচারের ঘটনায় অবশেষে উখিয়া থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ মামলায় এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগেই ওই দুই শিক্ষার্থী থানায় গিয়ে এক পাচারকারীকে শনাক্ত করে।

গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠে মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, মানবপাচারের বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। আগে থেকেই যেসব তালিকাভুক্ত পাচারকারী ছিল, তাদের বাড়িতে অভিযান চালানোর জন্য সব থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই মানবপাচারকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে সাত দিন ধরে রামু থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলেও গতকাল উখিয়া থানার পুলিশ মামলা রেকর্ড করে। মামলার বাদী হয়েছেন পাচারের শিকার হওয়ার পরও ভাগ্যক্রমে ফিরে আসা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. হানিফের বাবা আবদুর রহিম বৈদ্য। পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ছৈয়দ উল্লাহকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

মামলা রেকর্ড করার বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের কালের কণ্ঠকে বলেন, অপহরণ ও পাচারের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ছৈয়দ উল্লাহকে শনাক্ত করেছে পাচারের শিকার দুই স্কুলছাত্র রাসেল ও হানিফ এবং তাদের অপরসঙ্গী আজিজ। তিনজনই দেখামাত্র ছৈয়দ উল্লাহকে শনাক্ত করে জানায়, এই ব্যক্তিই তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। রেজুখালে নিয়ে তাদের ট্রলারে তুলে দেওয়ার সময়ও ছৈয়দ উল্লাহ ঘটনাস্থলে ছিলেন। গত রবিবার ভোরে আটক করা ছৈয়দ উল্লাহকে এই শনাক্তকরণের পর মামলার আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁর চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়েও অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

কালের কণ্ঠে মানবপাচার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন গতকাল জেলাজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা চলে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে। এ কারণে আগের তালিকাভুক্ত পাচারকারীরা গাঢাকা দিতে শুরু করেছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

মন্তব্য