kalerkantho

বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে সরকারের সহযোগিতার নির্দেশনা চেয়ে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে সরকারের সহযোগিতার নির্দেশনা চেয়ে রিট

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনে সরকারকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তাবলিগের কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহাল চাওয়া হয়েছে। ওই পরিপত্র স্থগিত করে একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা পৃথক পরিপত্র কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়ার জন্য রুল জারিরও আবেদন জানানো হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার এ রিট আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এ আদালতে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে আদালত দিন ধার্য করেন। অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস মোল্লা এ রিট আবেদন দাখিল করেছেন। তাঁর পক্ষে আইনজীবী হলেন শাহ মো. নুরুল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। রিট আবেদনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিনজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে তাবলিগ জামাতের সৃষ্ট বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের আজ মঙ্গলবার ভারতের দেওবন্দ যাওয়ার কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দেওবন্দে তাবলিগ জামাত নিয়ে সব ধরনের বৈঠকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে গতকাল উভয় গ্রুপের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা উভয় গ্রুপের আলাদা ইজতেমার আয়োজন করার পরামর্শ দিয়ে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্রের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তই পুনর্বহাল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। 

তাবলিগ জামাতের বিরোধ মিটিয়ে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের আজ মঙ্গলবার ভারতের দেওবন্দ যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের কথা জানার পর গত ১৭ জানুয়ারি দেওবন্দ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সেখানে তাবলিগ জামাত নিয়ে সব ধরনের সভার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব দেলোয়ারা বেগমের স্বাক্ষরে জারি করা পরিপত্রে উভয় গ্রুপের জন্য পাঁচ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই মাসেরই ৪ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে জারি করা ওই পরিপত্রে বলা হয়, সমগ্র বিশ্বে তবলিগের কার্যক্রম একটি অরাজনৈতিক, অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত। মুসলমান জনসাধারণ তাদের আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের দাওয়াতের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অগ্রসরমান দেশ বিধায় দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম জামাত ‘বিশ্ব ইজতেমা’ প্রতিবছর গাজীপুর জেলার টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি এ সংগঠনের মধ্যে দৃশ্যমান বিভক্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে সংগঠনের দুটি গ্রুপের মধ্যে দেশের প্রায় সব এলাকায় প্রায়ই বিবাদ লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা ধর্মীয় রীতিনীতি তথা সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলার অন্তরায়। তাই দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা তথা সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করা হলো।

নির্দেশনায় বলা হয়, (ক) তাবলিগে বিদ্যমান দুটি পক্ষ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা/পরামর্শক্রমে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা ময়দানসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা মারকাজে সপ্তাহের ভিন্ন ভিন্ন দিনে/তারিখে তাদের কার্যক্রম (সাপ্তাহিক বয়ান ও রাত্রি যাপন, পরামর্শ ও তলিম, মাসিক জোড় ইত্যাদি) পরিচালনা করবে। তবে কোনো পক্ষ চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে পরামর্শক্রমে মারকাজ ব্যতীত অন্য কোনো মসজিদে/জায়গায়ও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। (খ) তাবলিগের আদর্শ ও চিরাচরিত রীতিনীতি অনুযায়ী কোনো পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে কোনোরূপ লিখিত বা মৌখিক অপপ্রচার চালাবে না। (গ) দেশের সব মসজিদে পূর্বের ন্যায় শান্তিপূর্ণভাবে দাওয়াতি কাজ পরিচালিত হবে। সে লক্ষ্যে যেকোনো মসজিদে উভয় পক্ষের জামাতই যেতে পারবে। এতে কোনো পক্ষই কাউকে বাধা দেবে না। তবে একই সময়ে দুই পক্ষের দেশি ও বিদেশি জামাত একই মসজিদে অবস্থান করা যুক্তিসংগত হবে না। এ ক্ষেত্রে যে পক্ষ আগে আসবে সেই পক্ষের জামাত অবস্থান করবে। অন্য পক্ষের জামাত পার্শ্ববর্তী অন্য কোনো সুবিধাজনক মসজিদে চলে যাবে। (ঘ) উভয় পক্ষ তাদের ইজতেমা/জোড়ে তাবলিগের দেশি-বিদেশি মুরব্বিদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। এতে এক পক্ষ অন্য পক্ষের কার্যক্রমে কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। (ঙ) কোনো এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। 

পরবর্তী সময়ে একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরে আগের (১৮ সেপ্টেম্বর) পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করে ২৪ সেপ্টেম্বর আরেকটি পরিপত্র জারি করা হয়। এরপর উভয় গ্রুপের মধ্যে বিরোধ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গত বছরের ১ ডিসেম্বর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অনেক মুসল্লি আহত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ব

ইজতেমার আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মন্তব্য