kalerkantho


তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ার দায় নিতে রাজি নন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলছে কূটনৈতিক টানাপড়েন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বিষয়টিকে করে তুলেছে জটিল। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে জোর দেবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঠিক সে সময়েই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিং বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উসকে দিয়েছেন ইস্যুটি। তিস্তার পানি নিয়ে চামলিংয়ের বক্তব্য মমতার সম্পূর্ণ বিপরীত।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী চামলিং বলেছেন, ‘আমরা যেভাবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বানিয়েছি, তাতে নদীর পরিবেশ বা বাস্তুতন্ত্রের কোনো ক্ষতি হয়নি বললেই চলে। সিকিম এতটাই দায়িত্বশীলভাবে তিস্তার ওপর বিভিন্ন জলাধার ও বাঁধ নির্মাণ করেছে যে তাতে গোটা রাজ্যের মাত্র সাতটি পরিবারকে আশ্রয়চ্যুত হতে হয়েছে। তিস্তার ভাটিতে যেসব অঞ্চল রয়েছে তাদের উদ্বেগের প্রতিও সিকিম সব সময় খেয়াল রেখে চলছে।’ তবে মুখ্যমন্ত্রী চামলিং ওই সাক্ষাৎকারে তিস্তা চুক্তি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন।

তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের পার্বত্য অঙ্গরাজ্য সিকিমে। আর সিকিম তিস্তার ওপর একের পর এক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার ফলে নদীর প্রবাহ ক্রমে শুকিয়ে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। এরই সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক বছর ধরে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। বস্তুত ‘তিস্তায় একেবারেই জল নেই’ বলে দাবি করেছেন মমতা। তিস্তার প্রবাহ পর্যালোচনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে কমিশন গঠন করেছিল তারাও মনে করে, সিকিমের অসংখ্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে তিস্তার অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। জায়গায় জায়গায় শুকিয়ে গেছে।

তিস্তার প্রবাহ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর বিপরীত বক্তব্যের মাঝেই আওয়ামী লীগ সরকারের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আগামী মাসে ভারত সফর করবেন। ভারতের পরারাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আমন্ত্রণে এটি সৌজন্য সফর হলেও তিস্তা চুক্তি বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে।



মন্তব্য