kalerkantho


নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পেনশন চান আতিউর

গার্মেন্ট শ্রমিকদের দিয়ে শুরুর পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনতে সরকারকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের দিয়ে এটা শুরু করা যায়। এরপর রিকশাচালকসহ স্বল্প আয়ের মানুষকেও এই পেনশনের আওতায় আনা যায়।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) আয়োজিত এক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে আতিউর রহমান এই  প্রস্তাব রাখেন।

সাবেক গভর্নর বলেন, ‘যে মেয়েটি ঢাকায় এসে গার্মেন্টে চাকরি করছে, প্রতি মাসে তার টাকা গ্রামে মা-বাবা কিংবা স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু ২০ বা ৩০ বছর পর যখন সে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছে তখন তার কাছে জমা কিছুই নেই। এরপর এ পোশাককর্মী কিভাবে চলবে, সে চিন্তা সরকারকে করতে হবে।’

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, শ্রমিকের বেতন থেকে কিছু অর্থ কেটে রেখে এর সঙ্গে সরকার আরো কিছু অর্থ যোগ করে এ পেনশন স্কিম বাস্তবায়ন করতে পারে। এই কার্যক্রম দেশ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূরীকরণে সহায়তা করবে বলে মনে করি। বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আতিউর রহমান বলেন, ‘ভিয়েতনামে বছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। এমনকি মিয়ানমারে পর্যন্ত পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের হচ্ছে মাত্র তিন বিলিয়নের মতো।’ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য তিনি শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণের পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধের ওপর ওপর গুরুত্ব দেন।

সানেম নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে মানসম্পন্ন জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং জিডিপির বিপরীতে কর আহরণকে চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করেন। বৈদেশিক বাণিজ্য স্থিতিশীল রাখা, শক্তিশালী রিজার্ভ ধরে রাখা এবং বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে পারাকে সফলতা বলে উল্লেখ করেন।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম এখন দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন্য ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ওপেন করার সময় এসেছে। আমাদের অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করা উচিত। দেশের টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন। এ জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ দরকার।’



মন্তব্য