kalerkantho


ট্রাফিক আইন মানছে না অটোরিকশাচালকরা

টাঙ্গাইল শহর

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ট্রাফিক আইন মানছে না অটোরিকশাচালকরা

টাঙ্গাইল শহরে অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। ছবিটি সম্প্রতি টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ট্রাফিক আইন না মেনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোয় টাঙ্গাইল পৌর এলাকা যানজটের শহরে পরিণত হয়েছিল। এ যানজটের কারণে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সময়মতো পৌঁছানো যেত না। তা ছাড়া অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল ও চালকের অদক্ষতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। যানজটের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে শহরবাসীকে রেহাই দিতে গত বছর পৌর কর্তৃপক্ষ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। অটোরিকশাগুলো দুই শিফটে ভাগ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বাসটার্মিনাল এলাকায় রাস্তার মধ্যে অটোরিকশা ঘোরোনোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। প্রথম দিকে যানজটমুক্ত শহর পাওয়া গেলেও কিছুদিন পরেই চিত্র আবার আগের মতোই হয়ে যায়।

টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে অটোরিকশাচালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যানজটের চারটি কারণ চিহ্নিত করা গেছে। এগুলো হচ্ছে—অটোরিকশার সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত, অটোরিকশার অদক্ষ চালকদের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, রাস্তার ওপর গাড়ি ঘোরানো ও রাস্তার পাশে পার্কিং।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের নতুন বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ দিকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এটি কখনো কখনো হাসপাতাল গেট হয়ে শামসুল হক তোরণ মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া কুমুদিনী কলেজ মোড়, সুপারি বাগান মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কালীবাড়ী মোড়, বটতলা, পৌর উদ্যানের সামনে, নিরালা মোড় ও বেবিস্ট্যান্ড এলাকায় মাঝেমধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

নতুন বাস টার্মিনালের দক্ষিণ পাশ থেকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায়ই বাসাইল-সখীপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বাস পার্কিং করে রাখা হয়। যানজটে আটকা পড়লে বেশির ভাগ সময় অটোরিকশাচালকরা যাত্রী নামিয়ে অটোরিকশা ঘুরিয়ে অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়ে যানজট আরো তীব্র হয়। নতুন বাস টার্মিনালের গাড়িগুলো ছেড়ে যাওয়া ও প্রবেশের সময় রাস্তার দুই পাশে অটোরিকশা ও রিকশা আটকে রাখা হয়। এতেও যানজটের সৃষ্টি হয়। আর ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।

অটোরিকশার যাত্রী রাজু মিয়া বলেন, যানজট নিরসনে দুই শিফটে অটোরিকশা চলাচল করলেও শহরের যানজট কমেনি। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও দোষ রয়েছে। অনেকে ৫-১০ টাকা ভাড়া দিতে ১০০ টাকার নোট দিয়ে থাকে। অটোরিকশাচালক রাস্তার পাশে রেখে ভাংতি দিতে গিয়েও যানজটের সৃষ্টি হয়।

কামরুল হাসান নামের অন্য যাত্রী বলেন, যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা করা হয়। যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকলে যানজট কম হবে।

অটোরিকশাচালক শফিক মিয়া বলেন, ‘দোষ আমাদেরও আছে। অটোরিকশাচালকদের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে অটোরিকশা চালালে যানজট কম হবে। আর রাস্তার ওপর পার্কিং বন্ধ করতে হবে।’

সোলায়মান মিয়া বলেন, ‘শহরের রাস্তা চাপা। অথচ অটোরিকশা অনেক। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজের সামনে থেকে যাত্রী না তুলে একটু দূরে থেকে যাত্রী তুলতে হবে।’

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরণ বলেন, ‘শহরের যানজট নিরসনের জন্য তিন হাজার অটোরিকশা দুই শিফটে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পরেও বিভিন্ন সময় শহরের কিছু কিছু এলাকায় যানজট হচ্ছে। এর কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য