kalerkantho


ছাড়ের ছড়াছড়ি বাণিজ্য মেলায়

কোনো কোনো স্টলে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে

ফারজানা লাবনী   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ছাড়ের ছড়াছড়ি বাণিজ্য মেলায়

দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাড়ছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। গতকাল বসুন্ধরার স্টল থেকে তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়ও ক্রেতা টানতে চলছে ‘ছাড়’ আকর্ষণ। কোনো কোনো স্টলে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি দেওয়ার প্রস্তাব (অফার) দেখানো হচ্ছে ক্রেতাদের। রয়েছে পাঁচটির বেশি প্যাকেজ কিনলেও মূল্যছাড়। আছে ‘উপহার’ও। অনেক স্টল মালিকরা আবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন দেখেও ছাড় বা বিশেষ অফারের টোপ দিচ্ছেন। বিদেশ ভ্রমণের অফারও দেওয়া হচ্ছে। অধিক বিক্রিতে ছাড় দিলেও লাভ—ক্রেতার এই হিসাব যেমন রয়েছে, তেমনি ক্রেতা আকর্ষণের কৌশলী ছাড়ও রয়েছে। তাই ছাড়ে পণ্য কিনে আখেরে কতটুকু লাভ, তার হিসাব মেলার সময় নেই। ক্রেতারা তাই ছাড়ের দোকানগুলোতেই ভিড়ছেন বেশি। তাতে বিক্রিবাট্টাও হচ্ছে বেশ।

গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের ভিড় আর স্টলগুলোতে বিপুল পণ্যের পসরা। কী নেই মেলায়? একবারের জন্য হলেও মাথায় খেলে যাবে এই প্রশ্নটা।

কর্মব্যস্ততায় ইচ্ছা থাকলেও যাঁরা বাণিজ্য মেলায় আসা কঠিন, তাঁরা ছুটির দিনেই মেলায় যেতে পছন্দ করেন। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের নিয়েও এসেছিলেন। তাই অন্য দিনের চেয়ে গতকাল ভিড়টা একটু বেশিই ছিল। তবে ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে আগতদের মধ্যে দর্শনার্থীর সংখ্যাও কম ছিল না। তবে যারা শুধুই পণ্য কিনতে এসেছিলেন, তাঁরা একটু আগেভাগেই, সময় নিয়েই মেলায় আসতে দেখা গেছে। অনেকে তো কী কী কিনবেন তার তালিকাই নিয়ে আসেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহিদ রহমান তাঁর স্ত্রী ও দুই বাচ্চাকে নিয়ে বাণিজ্য মেলায় এসেছেন। বাণিজ্য মেলায় কী কী কিনবেন তার লম্বা তালিকা করে বাসা থেকে নিয়ে এসে কেনাকাটা করছেন।

তাঁর স্ত্রী শর্মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাণিজ্য মেলায় প্রতিবছরই ছাড় থাকে। আমরা এ সুযোগে কম দামে কেনাকাটা করি। এবারেও এসেছি। এখানে বেশি পরিমাণে কিনলে কম দামে কেনার সুযোগ পাওয়া যায়। বেছে বেছে মূল্যছাড়ের স্টলে যাচ্ছি। দেখেশুনে প্রয়োজনীয় জিনিসটি কম দামে কেনার চেষ্টা করছি।’

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে মুন্নু শাইনপুকুরের রকমারি সিরামিকের পণ্য। দেশি-বিদেশি জুয়েলারি নিয়ে এফজিতে নতুন ডিজাইনের অনেক জুয়েলারি বিক্রি হচ্ছে। বাসাবাড়ি ও অফিসে ব্যবহার উপযোগী কাঠের আসবাবের পাশাপাশি অ্যালুমিনিয়াম, স্টিলের ফার্নিচারও বিক্রি হচ্ছে। মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় রয়েছে এসব স্টলে। অফিসঘর গৃহস্থালির পণ্য বিক্রিতে আকতার ফার্নিচার ৫ থেকে ৩৫ শতাংশ, পারটেক্স ২০ শতাংশ, ডেল্টা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে পণ্য বিক্রি করছে। মেলায় বাইরের শোরুম থেকে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে আলিবাবার দরজা। ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে টপার কুকারসহ বিভিন্ন পণ্য কিনলে। ভিশন থেকে ফ্রিজ কিনলে ক্রেতাকে সঙ্গে বিনা মূল্যে দিচ্ছে পানি পরিশুদ্ধ করার যন্ত্র। বিছানার চাদর, মশারি, বালিশ, বালিশের কভার, সোফার কুশন, সোফার কুশনের কভারসহ ঘর-গৃহস্থালির পণ্য রয়েছে বাণিজ্য মেলার অনেক স্টলে। বিছানার চাদর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ২০০০ টাকায়। একসঙ্গে দুই বা তার বেশি কিনলে ২০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় রয়েছে।

সব বয়সের জন্য হাল ফ্যাশনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে অনেক স্টলে। ছোটদের পোশাক ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা তার বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের ফতুয়া, টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট, কোটি, কোট, পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। বাহারি ডিজাইনের দেশি-বিদেশি শাড়ি রয়েছে অনেক স্টলে। দাম এক হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা বা বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে শাড়ি। শাড়িতে ছাড় না থাকলেও অন্য পোশাক বেশি কিনলে রয়েছে মূল্যছাড়।

শীতের পোশাক কিনছে ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে। শাল, কোট, সোয়েটার, মাফলারসহ শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। দাম ২০০ থেকে ৫০০০ টাকা। অনেক স্টলের বিক্রেতারা হাঁকডাক দিয়ে বিভিন্ন দামের শীতের পোশাক গড়ে একটি দামে ছেড়ে দিচ্ছেন। বলছেন, ‘যা নিবেন এক শ’। এসব স্টলের সামনে ক্রেতার যথেষ্ট ভিড় রয়েছে।



মন্তব্য