kalerkantho


ঢাকা-১০

দাপাচ্ছেন তাপস, গ্রেপ্তার ভয়ে মাঠে নেই বিএনপির মান্নান

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দাপাচ্ছেন তাপস, গ্রেপ্তার ভয়ে মাঠে নেই বিএনপির মান্নান

রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকায় গতকাল গণসংযোগ করেন ঢাকা-১০ আসনের নৌকার প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নৌকায় আকৃষ্ট করতে পুরোদমে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। গত বুধবার থেকে ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, কলাবাগান এবং নিউ মার্কেট এলাকায় জনসংযোগ ও জনসমাবেশ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র তাপস।

গতকাল শনিবার ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন ঘুরে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, জাতীয় পার্টির হেলাল উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল আওয়ালের পোস্টার দেখা গেছে। আসনটিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি তিন প্রার্থী বিএনপির আব্দুল মান্নান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কে এম শামসুল আলম এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল বাহারানে সুলতান বাহারের কোনো পোস্টার চোখে পড়েনি। এই তিনটি দলের প্রার্থীর তৎপরতা সম্পর্কে অবগত নয় ঢাকা-১০ আসনের ভোটাররাও। বিএনপি প্রার্থী আব্দুল মান্নানের অভিযোগ নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে থাকায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে জনসংযোগ।

ভোটাররা জানায়, ঢাকা-১০ আসনের বেশির ভাগ সড়কের মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। মাইকে আওয়ামী লীগ ও ফজলে নূর তাপসের বিগত সময়ের উন্নয়ন কাজ নিয়ে বাজানো হচ্ছে গান। আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিয়মিত নৌকার ভোট চেয়ে মিছিল ও সমাবেশ করছে। একই সঙ্গে ভোটারদের মাঝে বিলি করছে নৌকার লিফলেট। তাপসের পক্ষ থেকে বিলি করা এসব লিফলেটে মহাজোট সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গতকাল ফজলে নূর তাপস নিজেও জিগাতলা এলাকায় লিফলেট বিলি করেছেন ভোটারদের মাঝে। একই সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিস্তর উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন ভোটারদের কাছে।

জিগাতলা সরকারি কলোনি মাঠে সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় এই দেশ ও জনগণ নিয়ে ভাবেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আপনারা ৩০ তারিখ নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে ঢাকা-১০ আসনের জনগণকে সেবা করার সুযোগ দেবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের প্রচারণায় নামলেও বিএনপির তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কাজ করতে পারছে না গ্রেপ্তারের ভয়ে। দলের কর্মীদের অহেতুক হয়রানি করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা-১০ আসনের কোনো এলাকায় সাঁটানো যাচ্ছে না ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ধরনের ফল আসেনি।

আব্দুল মান্নান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হবে। গ্রেপ্তার এড়াতে কাজের লোক পাঠিয়েছিলাম পোস্টার সাঁটাতে, তাদেরও মারধর করা হয়েছে। জনসংযোগ তো দূরের কথা, এলাকায় পোস্টারই লাগানো যাচ্ছে না।’

ঢাকা-১০ আসনের ভোটারদের মতে, এলাকাটির সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস বেশ কাজ করেছেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র হওয়ায় প্রগতিশীল মানুষের আগ্রহ আছে তাঁর প্রতি। নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই এলাকায় জনসংযোগ করছেন তিনি। খোঁজখবর রাখেন দলের নেতাকর্মীদেরও। তাই আবারও ঢাকা-১০ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন। একই সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে এলাকাবাসীর তেমন সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ছাড়া নির্বাচনের প্রাক-মুহূর্তে আব্দুল মান্নানের শীথিলতা ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে দ্বিধা। তবে ঢাকা-১০ আসনে বেশ ভোট রয়েছে ধানের শীষের। তবে দলীয় কৌশলের কারণে সাময়িক নীরব থকলেও সময়মতো ঠিকই জনসংযোগে নামবেন ধানের শীষের প্রার্থী—এমনটা মনে করেন অনেক ভোটার।

জিগাতলা এলাকার ভোটার শামসুল হক বলেন, ‘বর্তমান এমপি এলাকার প্রতিটি মসজিদে নামাজ পড়েন। খোঁজখবর রাখেন স্থানীয়দের। এ ছাড়া পারিবারিক কারণে তিনি এই এলাকায় জনপ্রিয়। আবারও তিনিই জয়ী হতে পারেন।’

ধানমণ্ডি-১৫ এলাকার বাসিন্দা সানজিদা কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকায় ধানের শীষের ভোট আছে। এখনো বিএনপি প্রার্থী মাঠে নামেননি জোরেশোরে। তবে সময় হলে ঠিকই নামবেন। তবে আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।’

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে এ আসনে পালাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি ধরে রাখতে পেরেছে। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে (তৎকালীন ঢাকা-৯) আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে পরাজিত করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরে খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তবে ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেনের কাছে হেরে যান বিএনপির প্রার্থী লে. জে. (অব.) মীর শওকত আলী বীর-উত্তম। ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মকবুল হোসেনকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন বিএনপির খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ধানমণ্ডি, কলাবাগান, নিউ মার্কেট, হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে ঢাকা-১২ আসন গঠিত হয়। সে নির্বাচনে আসনটি আবার বিএনপির হাতছাড়া হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির প্রার্থী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদকে ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোটে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ঢাকা-১২ আসনের এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত হয় ঢাকা-১০ আসন। সে নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য আছেন তাপস।



মন্তব্য