kalerkantho


ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ

‘একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি আমরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর ও টঙ্গী প্রতিনিধি   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, ‘একটা যুদ্ধের মধ্যে আছি আমরা। এই যুদ্ধ হচ্ছে নিরস্ত্র জনতার লড়াই সশস্ত্র শক্তির বিরুদ্ধে।’ ঐক্যফ্রন্টের প্রথম রোড মার্চের সময় তাঁরা এসব কথা বলেন।

গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ঐক্যফ্রন্ট প্রথম রোড মার্চ করে। এর অংশ হিসেবে বিকেলে টঙ্গীতে গাজীপুর-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সালাহউদ্দিন সরকারের বাড়ির প্রাঙ্গণে প্রথম পথসভা করেন ফ্রন্টের নেতারা। সন্ধ্যায় শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় দ্বিতীয় পথসভা করেন তাঁরা। পরে রাতে ময়মনসিংহের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে জনসভা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

রোড মার্চে এই জোটের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থতার কারণে যোগ দেননি।

দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে রোড মার্চ শুরু করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। শেরপুর পর্যন্ত আরো কয়েকটি স্থানে পথসভা করার কথা রয়েছে তাঁদের। শেরপুরের পৌর পার্ক চত্বরে পথসভার মধ্য দিয়ে এই রোড মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

শ্রীপুরের পথসভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘২৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় দিলাম। জনতার রুদ্ররোষ দেখে যান। যদি আমাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করেন, পুলিশি হামলা বন্ধ না করেন, জনগণ যদি রুখে দাঁড়ায়, জনগণ যদি আপনাদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়, তাহলে পরিণতির জন্য আমরা দায়ী হব না। একাত্তর সালে পাকিস্তানিরা একই পরিণতির মুখে পড়েছিল, জনতার কাছে পরাজয় বরণ করেছে।’

পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রব আরো বলেন, ‘আজকের পরে একটা কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না—একটা কর্মী গ্রেপ্তার করবেন না। পরিণতি ভয়াবহ হয়ে যাবে।’

ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সরকারের মাথা নষ্ট এখন। কারণ তারা দেখছে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে মানুষের জোয়ার। পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়েছে, হামলা করেছে, মামলা করেছে, পাঁচ বছর ঘরে থাকতে দেয়নি। কিন্তু গণজোয়ার থামছে না। এখন তারা শেষ পর্যন্ত ড. কামালের ওপর হামলা করছে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মান্না বলেন, ‘যুদ্ধ হচ্ছে—ভোটের যুদ্ধ। আর এ যুদ্ধে আপনারা সবাই শরিক। কী যুদ্ধ করবেন? এ নির্বাচনী এলাকায় যত ভোটার আছে প্রত্যেকের বাড়িতে যাবেন। ওদের বলেন, তাদের এই একটা ভোটে জালিম সরকারের পতন হবে। লুটপাট বন্ধ হবে। তাদের একটা ভোটে দেশকে বিদেশের হাতে বিক্রি করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে। আর সবার পরে আপনাদের প্রিয় নেত্রী বেগম জিয়ার মুক্তি হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছি। এবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ। ৩০ তারিখ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদা জিয়াকে জেলখানা থেকে বের করে আনব।’

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান ফকির। এতে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গাজীপুর-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ডা. শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এর আগে বিকেলে টঙ্গীর পথসভায় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন, শুধু ভোটকেন্দ্র পাহারাই নয়, মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে। ফলাফল বুঝে নিয়ে এরপর কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য দেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

রব বলেন, ‘জান দেব তবু ব্যালট দেব না। নির্বাচনের দিন কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখা হবে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ নির্বাচন দেশের অস্তিত্ব রক্ষার নির্বাচন। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার নির্বাচন। বিজয় আমাদের হবেই।’

মান্না বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে নেমেছি। এ যুদ্ধে আমাদের অস্ত্র নেই। আমাদের আছে ব্যালট আর জনগণ। যতই অত্যাচার চলুক, আমাদের ব্যালটের লড়াইয়ে জিতে জবাব দিতে হবে।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভোটারদের কেন্দ্রে এনে ফলাফল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। জনগণ আর দুর্নীতি চায় না। চায় আইনের শাসন।’

এদিকে গত রাতে ময়মনসিংহে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘দেশ বাঁচাতে, গণতন্ত্র টেকাতে ধানের শীষে ভোট দিন। খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইলে ভোটের দিন সকাল থেকে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আমার ভোট আমি দেব, সব ভোটের হিসাব আমাদের দিয়ে যেতে হবে।’

জনসভায় আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জুলুম-নির্যাতনে বিএনপিসহ দেশের মানুষ আজ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে ৩০ ডিসেম্বর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করুন। তবেই বেগম খালেদা এবং দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ভয়-ভীতি, মামলা-হামলা, ভোট চুরি করে আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না। গ্রেপ্তার এড়িয়ে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকুন। ৩০ ডিসেম্বর ব্যালটের মাধ্যমে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।’

ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে দেশে চলমান সব মেগাপ্রকল্প চালু রাখা হবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে ওষুধ ও চিকিৎসা খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনব। দুর্নীতি বন্ধ করব।’

 



মন্তব্য