kalerkantho


ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসককে মারধর প্রতিবাদে বন্ধ চিকিৎসাসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কর্তব্যরত চিকিৎসককে মারধর করার প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। গত শুক্রবার রাতে চিকিৎসককে মারধর করায় এ ঘটনা ঘটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা জানা গেছে, নির্বাচনী সংঘর্ষে আহত হয়ে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনাবাগ এলাকার পাঁচ ব্যক্তি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এ সময় এক আহত ব্যক্তির শরীরের আঘাতটি কোপের দেখিয়ে প্রতিবেদন দিতে কর্তব্যরত মেডিক্যাল কর্মকর্তা অমিত কুমার ঘোষকে চাপ দিতে থাকে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে আসা লোকজন। চিকিৎসক এতে রাজি না হয়ে বলেন, ‘আমি কোনো কোপের দাগ দেখছি না, কেন তা লিখব।’ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক ব্যক্তি ওই চিকিৎসককে চড়, থাপ্পড় মারে।

এর প্রতিবাদে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা প্রদান থেকে বিরত থাকেন। তবে জরুরি বিভাগ খোলা ছিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল হাশেমকে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফা ফোন দিলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।

এদিকে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. আবু জাহের বলেন, চিকিৎসককে জোর করে প্রতিবেদন লিখতে চাপ দেওয়া হয়। তিনি তা করতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নেই’—মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল হাশেমকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নিখিল অধিকারী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত শুক্রবার রাতে কোনো চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার কথা জানা নেই। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

 



মন্তব্য