kalerkantho


ড. কামালের কাছে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর প্রশ্ন

জামায়াতের কাছ থেকে কত টাকা খেয়েছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনকে প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘জামায়াতের কাছ থেকে কত টাকা খেয়ে আপনি তাদের পক্ষে ওকালতি করছেন?’ গতকাল শনিবার সকালে সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতকে জোটভুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এক সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতাকে তিনি এই প্রশ্ন করেন।

একই সঙ্গে সভা থেকে ড. কামাল হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিকদের দুই সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতারা। হুমকির ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান সাংবাদিক নেতারা।

বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে, নতুবা সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও মঙ্গলবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। বিক্ষোভ সভায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী ও বিএফইউজে যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ।

ড. কামালের কাছে প্রশ্ন রেখে বিক্ষোভ সমাবেশে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াতের কাছ থেকে কত টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে ওকালতি করছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ এ বক্তব্যের দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ভোটারদের আহ্বান জানান তিনি।

ড. কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন

আচরণ করেছেন : নানক

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’ গতকাল দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘রাজনীতিতে ড. কামাল হোসেনকে কখনো জাতির সংকট মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং ১৯৭৫-এ ড. কামাল হোসেনের রহস্যাবৃত, বিতর্কিত ভূমিকার কথা দেশবাসী জানেন। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে তাঁকে কখনো পাওয়া যায়নি। ড. কামাল হোসেন বিভিন্ন সময় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন, ড. কামাল হোসেনের ষড়যন্ত্র-রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতারই অংশ।’

১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়াতে হবে : আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আওয়ামী লীগে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। কিছু প্রার্থী আছেন, যাঁদের ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে এবং আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করতে হবে। না হলে আমরা কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবদুস সবুর, আফজাল হোসেন প্রমুখ।

স্মৃতিসৌধে যাওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন

ড. কামাল : মেনন

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করে ড. কামাল বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যাওয়ার কেবল নৈতিক অধিকারই হারাননি, বুদ্ধিজীবী হত্যা, স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কথা বলার সব অধিকার হারিয়েছেন। তাই সাংবাদিকরা নয়, দেশবাসীর কাছে তাঁরই ক্ষমা চাইতে হবে।’ গতকাল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে এ সভার আয়োজন করে।

মেনন বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করায় ড. কামাল যদি একজন সাংবাদিককে হুমকি দিতে পারেন, কত টাকা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করছে বলে জিজ্ঞেস করতে পারেন, তাহলে আমরাও তাঁকে একই প্রশ্ন করতে পারি, তিনি কত টাকার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসাতে মাঠে নেমেছেন?’

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। বক্তব্য দেন শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর সহধর্মিণী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কণক কান্তি বড়ুয়া, বিএমএর মহাসচিব ইহতেশাম আলমগীর প্রমুখ।

 

 



মন্তব্য