kalerkantho


আলোচনাসভায় ভুক্তভোগীরা

পেট্রলবোমার আঘাত এখনো যন্ত্রণা দেয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পেট্রলবোমার আঘাত এখনো যন্ত্রণা দেয়

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম আয়োজিত আলোচনাসভায় গতকাল নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন ‘আগুন সন্ত্রাসের’ শিকার এক ব্যক্তি। ছবি : কালের কণ্ঠ

কারো পোড়া মাথা, কারো বা পোড়া মুখ, সাদা চাদর দিয়ে নিজের পোড়া শরীর ঢেকে রেখেছে কেউ কেউ। অনেকে হারিয়েছে বাবা, একমাত্র উপার্জনকারী ভাই। আবার সংসারের হাল ধরা স্বামীকে হারিয়ে কেউ কেউ এখন বেঁচে থেকেও মৃত। ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন চলার সময় দেশজুড়ে চলা পেট্রলবোমায় আহত ব্যক্তি, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কান্নায় জেগে উঠল ক্ষোভ। সেই সঙ্গে তারা আন্দোলনের নামে ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাইল দেশের মানুষের কাছে। আহত অনেকে জানাল, পেট্রলবোমা সন্ত্রাসের বীভৎস সেই আঘাত এখনো তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। প্রতি মুহূর্তে ভীষণ যন্ত্রণা দেয়।

পেট্রলবোমা সন্ত্রাসে আক্রান্ত বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ভুক্তভোগীদের কথা শুনতে গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। ‘পেট্রলবোমার ধ্বংসস্তূপ থেকে—মৃত্যুঞ্জয়ী আমি ও আমার জীবন’ শীর্ষক এ আলোচনাসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)।

ময়মনসিংহ থেকে আসা পেট্রলবোমা সন্ত্রাসের শিকার হাতেম আলী বলেন, ‘গেরাম থেইক্কা জিনিস খুঁইজ্জা আইনা বেচতাম। একদিন আসার সময় বুম (বোমা) আমারে পুইরা দিছে। ডাক্তার কইছিল সব চামরা লাগাইতে অইব। আড়াই মাস হাসপাতালে শুইয়া আছিলাম। আড়াই লাখ টাহা লাগছিল। ডাক্তার কইছিল আর বেশি লাগত যদি সরকার না কমাইত। এহন সংসারে ৯ জনা মানুষ নিয়া চলতাম পারি না। যারা পুইরা মারতে চাইছিল—হেই বিএমপি-জমাতগোরে (বিএনপি-জামায়াত) ভোট দেওন যাইব না। আবার শেখ হাসিনারে চাই।’

যশোর থেকে আশা রুবেল ও তাঁর মা ফরিদা আক্তার, গাজীপুরের কাপাসিয়ার জমির আলী, ইডেন কলেজের ছাত্রী সালমানিকা, ঢাকার তানভীর আহমেদ, বগুড়া থেকে আসা সাজু মিয়া, পেট্রলবোমায় স্বামী হারানো মাতুয়াইলের চম্পা, মো. খোকনসহ ২৫ জন একে একে তুলে ধরেন তাঁদের বীভৎস স্মৃতি ও কষ্টের কথা।

ভুক্তভোগীদের কথা শোনার পর অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘সাংবাদিকদের অনুরোধ করব আপনারা এই মানুষগুলোর কষ্টের কথা দেশের মানুষদের জানাবেন। যাতে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সবাই বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের ভোট না দেয়। বিএনপি-জামায়াত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। ওরা সন্ত্রাসী সংগঠন বলে কানাডার আদালতও দুইবার রায় দিয়েছেন।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বোমা মেরে মানুষ পোড়ানো কোনো ধরনের রাজনীতি হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাকে একসময় আইনমন্ত্রী বানিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তারা এখন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হচ্ছে। তবে সেই দেশে আর কী আশা করতে পারি!’

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিন্নাত হুদা, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্যসচিব মামুন আল মাহতাব প্রমুখ।



মন্তব্য