kalerkantho


মহিলা পরিষদের সমাবেশ

ইশতেহার বাস্তবায়নসহ ২১ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারী-পুরুষের সম-অধিকারসহ সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার থাকা, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিসহ ২১টি বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। গতকাল রবিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে সমাবেশ করে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতনকারী, নারীর মর্যাদায় যারা বিশ্বাসী নয় নির্বাচনে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করারও আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া সংসদের  সংরক্ষিত নারী আসনসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করার দাবি এসেছে সমাবেশ থেকে।

নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এই নারী সমাবেশ করে মহিলা পরিষদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম। বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর শাখার সহসাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর, মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার প্রমুখ।

সমাবেশে ঘোষণা পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রেখা চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে আয়েশা খানম বলেন, যে দেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা, যে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেই দেশে নারীরা নিরাপদভাবে রাস্তায় হাঁটতে পারে না। সরাসরি নির্বাচিত না হতে পারার কারণে ৫০ জন নারী সংরক্ষিত সংসদ সদস্যকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো থাকতে হয়। একসময় যাঁরা নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতেন, তাঁরা সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হয়ে আর কথা বলতে পারেন না, দলের অনুসারী হয়ে যান। কারণ তাঁদের কোনো নির্বাচনী এলাকা নেই। কোনো জনসমর্থন নেই। তাই সরাসরি নির্বাচন করে সংসদের আসনে বসতে হবে। সেই সুযোগ করে দিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই।

সমাবেশে মহিলা পরিষদ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাচনকে কালো টাকা ও পেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত রাখা; নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা যাতে কোনোরূপ বিরূপ প্রচারণা বা সহিংসতার শিকার না হন, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা; নারী, কন্যানির্যাতন নির্মূল করার লক্ষ্যে নারী, কন্যা নির্যাতনের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা।



মন্তব্য