kalerkantho


চট্টগ্রাম-২ ও ১৬ আসন

আ. লীগের পেয়ারুল, জামায়াতের জহিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী!

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে দুটি আসন এখন ব্যাপকভাবে আলোচনায়। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ক্ষমতাসীন দলের নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট চিন্তিত। তাঁদের কারণে দুই জোটের মনোনীত দুই ‘ভিআইপি’ প্রার্থী কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাঁরা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি খোলা চিঠি দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনার পরও চট্টগ্রাম-২ আসনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম গতকাল রবিবার শেষ দিনেও তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। আসনটিতে টানা দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি একবার আওয়ামী লীগ, একবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট এবং একবার বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকা প্রসঙ্গে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করিনি। স্বতন্ত্র হিসেবে আমার প্রার্থিতা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০০৮ সালের দলীয় প্রার্থী ছিলাম। অল্প ভোটে পরাজিত হই।’ উল্লেখ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর) কাছে পেয়ারুল পরাজিত হন।  

অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে। তিনি এ আসন থেকে ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে এমপি হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু এ আসনে উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করেননি। জহিরুল বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান জহিরুল।

উল্লেখ্য, বিএনপি জোট থেকে চট্টগ্রামের একটি আসন (চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল ইসলাম ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন। কিন্তু বিএনপি জোটের সিদ্ধান্ত না মেনে চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। বিএনপির ভিআইপি প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর আসনে জামায়াত নেতা জহিরুল প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ব্যাপারে জহিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজকে (গতকাল) দুপুর ২টার দিকে বিএনপি মহাসচিবের বার্তা উল্লেখ করে ঢাকা থেকে আমাকে একজন ফোন করেছিলেন। আমি বলেছি, ঢাকার গুলশানে বসে আসন বণ্টন না করে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে অনলাইনে অথবা ফিজিক্যালি জনমত জরিপ চালান। যদি জাফরুল ইসলাম এগিয়ে থাকেন আমি প্রত্যাহার করব, আর আমি এগিয়ে থাকলে উনাকে (জাফরুল) প্রত্যাহার করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘জাফর ভাই (বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গত দুই দিন আমাকে ফোন করে বলেছেন তাঁর সঙ্গে বসার জন্য। আমি বলেছি, আমাদের জেলা আমিরের (দক্ষিণ জেলা জামায়াত) সঙ্গে বসতে। কিন্তু তিনি বসেননি।’ 

প্রশ্নের জবাবে জহিরুল বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কাজ করেছি নির্বাচনে অংশ নিয়ে। এই পর্যন্ত আমাকে আমার দল থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য কিছু বলেনি। কারণ আমার অবস্থান ভালো। আমি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নাগরিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছি। দুই ভাইস চেয়ারম্যানও আমাদের দলের। আমি নির্বাচনী মাঠে থাকব। আমাকে জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন নেতাও সমর্থন দিয়েছেন।’

জহিরুল প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলেও চট্টগ্রাম-১০ (নগরের ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে জামায়াতের শুরা সদস্য ও দলের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বিএনপির প্রার্থী।



মন্তব্য