kalerkantho


ঢাকায় মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যা হলো

ওমর ফারুক   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করার জন্য ঢাকা-১৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মো. আমানত হোসেন। তিনি তাঁর হলফনামায় জানিয়েছেন তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস। কিন্তু সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন মাধ্যমিকের। গতকাল রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে।

রিটার্নিং অফিসার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম জানতে চাইলে আমানত হোসেন বলেন, ‘ভুলে লেখা হয়েছে’। তিনি ভুল বলে দাবি করলেও বিভাগীয় কমিশনার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এ সময় আমানত হোসেনকে মন খারাপ করে চলে যেতে দেখা যায়।

সকাল ৯টা থেকে সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ঢাকা ৫ থেকে ১৮ পর্যন্ত মোট ১৪টি আসনে ২১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ১৬১ জনের মনোনয়ন বৈধ ও ৫২ জনের বাতিল করা হয়েছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, যাঁদের মনোনয়ন কোনো কারণে বাতিল হচ্ছে তাঁরা চাইলে আপিল করতে পারবেন। আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে আপিল করতে পারবেন।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আজ যে আসনগুলোতে মনোনয়ন বাছাই করা হচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়নের আবেদন করেছেন ঢাকা-১৭ আসনে। এ আসনে ২৭টি আবেদন পাওয়া গেছে। ২৭ জনের এ তালিকায় ২০ নম্বরে ছিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী নাজমুল হুদা। তাঁর মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় বিভাগীয় কমিশনার জানান, তিনি আবেদনে কোন দলের প্রার্থী সেটি উল্লেখ করেননি। ফলে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হলো। এ সময় নাজমুল হুদা তাঁর মনোনয়ন বাতিল না করার অনুরোধ জানান। কিন্তু বিভাগীয় কমিশনার অপারগতা জানিয়ে বাতিল করে দেন। পরে নাজমুল হুদা আপিল করবেন বলে জানিয়ে বেরিয়ে যান।

ঢাকা-১৫ আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন বিএনপির মো. মামুন হাসান। তাঁর মনোনয়নপত্র যাছাইয়ের সময় বিভাগীয় কমিশনার সেখানে উপস্থিত পুলিশের প্রতিনিধির কাছে জানতে চান তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ১৬৪টি মামলা রয়েছে। তবে তাঁর সাজা হয়নি। এরপর কোনো ব্যাংকে বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কোনো আপত্তি আছে কি না জানতে চাইলে কেউ অভিযোগ না তোলায় তাঁর মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়।

প্রতিটি আসনের মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় বিএনপির প্রার্থীদের নাম এলেই সাংবাদিকরা কান পাততেন কতগুলো মামলা আছে শোনার জন্য। এর মধ্যে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনীত আরেক প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা থাকার কথা জানায় পুলিশ। অবশ্য সাজা না হওয়ায় তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছিলেন মো. সলিমুদ্দিন। তিনি আইন অনুযায়ী মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষরসহ তালিকা জমা দেন। জমা দেওয়া ভোটার তালিকার মধ্যে থেকে ১০ জনের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু ১০ জনের কেউই স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করেননি। গতকাল যাছাইয়ের সময় বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার প্রার্থী ও তাঁর সঙ্গে আসা লোকজনকে জানিয়ে দেন এবং তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

ঢাকা-১৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মেজর (অব.) মামুনুর রশীদ। তাঁর ক্ষেত্রেও কয়েকজন ভোটার স্বাক্ষর করার কথা স্বীকার করেনি বলে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ সময় প্রার্থী মামুনুর রশীদ বিভাগীয় কমিশনারের উদ্দেশে বলেন, ‘এমন আইন করা হয়েছে যেটি পালন করা খুবই কঠিন। এটা চেঞ্জ করা দরকার।’ বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘এটা রষ্ট্রীয় পলিসির বিষয়।’

চিত্রনায়ক ফারুকের প্রকৃত নাম আকবর হোসেন পাঠান। তিনিও ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মনোনয়নপত্র যাচাই শুরু হয়। বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে বা তাঁর সমর্থকের খোঁজ করেন। কিন্তু কেউ কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে একজন জানান, তিনি আকবর হোসেন পাঠানের সমর্থক। বিভাগীয় কমিশনার এক ঘণ্টা সময় দেন প্রার্থীকে নিয়ে আসার জন্য। তাঁর মনোনয়ন বাছাই তখন স্থগিত রাখা হয়। পরে তাঁর কাগজপত্র দেখার পর মনোনয়ন বৈধ বলে বিবেচিত হয়। একই আসনে আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এই প্রার্থী হলফনামায় স্বাক্ষরই দেননি। ফলে তাঁর মনোনয়নও বাতিল করা হয়।

ঢাকা-১৪ আসন থেকে আজমিরা সুলতানা নামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। তিনি অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জমা দিলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তাঁর মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় তাঁকে খোঁজা হয়। কিন্তু তিনি আসেননি। এমনকি তাঁর প্রস্তাবক-সমর্থকও আসেননি। বিভাগীয় কমিশনার তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে দেন।



মন্তব্য