kalerkantho


গৃহবধূর শরীরে আক্রোশের আগুন হাসপাতালে মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালে বিয়ে হয়েছিল রিতা আক্তারের। শ্বশুর-শাশুড়ির বারণে পড়ালেখা বাদ দিতে হয় তাঁকে। এর পরও তাঁকে বাঁকা চোখেই দেখত তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি। কথায় কথায় তাঁকে অপদস্থও করতেন তাঁরা। নিরুপায় হয়ে সংসার আলাদা করেও রেহাই মেলেনি।

রিতার স্বজনদের অভিযোগ, গত ২৮ নভেম্বর রাতে আগুনে ঝলসে দেওয়া হয় রিতার শরীর। মুমূর্ষু অবস্থায় প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার দুপুরে রিতা মারা যান। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাউনি গ্রামে মর্মন্তুদ এ ঘটনাটি ঘটে। রিতা (২৩) ওই গ্রামের কাতারপ্রবাসী আসাদুল্লার স্ত্রী।

আগুনে শরীর ঝলসে দেওয়ার ঘটনায় এর আগে গত ২৯ নভেম্বর শ্রীপুর থানায় ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ রিতার শাশুড়ি হাজেরা খাতুন ও ননদ জান্নাত আরাকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বজনরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে পাশের নতুন পটকা গ্রামের রোকন উদ্দিন ফকিরের মেয়ে রিতার সঙ্গে বাউনি গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে আসাদুল্লার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর আসাদুল্লা চাকরি নিয়ে কাতার চলে যান।

রিতার বাবা রোকন ফকির জানান, জামাই বিদেশে যাওয়ার পর থেকে তাঁর মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাঁকা চোখে দেখত। কথায় কথায় তাঁর মেয়েকে অপদস্থ করত তারা (শ্বশুর-শাশুড়ি)। নিরুপায় হয়ে তাঁর মেয়ে সংসার আলাদা করে ফেলে।

রোকন ফকির অভিযোগ করেন, ‘গত ২৮ নভেম্বর রাতে রিতা বাইরে শৌচাগার থেকে বের হওয়ামাত্র জামায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে শরীর ঝলসে যায় রিতার। চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে রিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুরে মারা যায় রিতা।’

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সাদি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনার পরদিনই থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামি দুজন হাজেরা খাতুন ও জান্নাত আরাকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

শ্রীপুর থানার ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, রিতা মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মারধরের পর তাঁর কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।



মন্তব্য