kalerkantho


অলিগলিতে রয়ে গেছে পোস্টার ব্যানার

ইসির নির্দেশনা মানেননি অনেক প্রার্থী
রাজধানীতে নেমেছে সিটি করপোরেশন কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অলিগলিতে রয়ে গেছে পোস্টার ব্যানার

নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হলেও এখনো রাজধানীর অনেক স্থান থেকে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করা হয়নি। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে ইব্রাহীমপুর হয়ে পথ চলতে চলতে চোখে পড়ল সেই রঙিন নির্বাচনী পোস্টারগুলোই। ইব্রাহীমপুর বাজারের আগে এম সাইফুল্লাহ সাইফুলের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানসংবলিত রঙিন পোস্টার দেখা গেল। চোখে পড়ল মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে এমপি দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে সাঁটানো পোস্টার। জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের সামছুল হককে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাঁটানো পোস্টার।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে, গত রবিবার মধ্যরাতের আগে এসব সরানোর কথা ছিল। নির্বাচনের আচরণবিধিমালা অনুযায়ী এ আদেশ না মানা হলে শাস্তির বিধান রয়েছে।

শুধু রাজধানীতে নয়, আগাম নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার, ব্যানার, তোরণ সরানো হয়নি দেশের অনেক স্থানেই। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের পক্ষে সক্রিয় কর্মীরা এসব সরানোর ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়। কোথাও পোস্টারের অংশ ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে। পুরো সরানো হয়নি বেশির ভাগ এলাকায়।

শেষ পর্যন্ত রাজধানীতে সিটি করপোরেশন এই প্রচারসামগ্রী সরাতে তৎপর হয়েছে। গতকাল সকালে পলাশী মোড়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ বিভাগের কর্মীদের কয়েকটি স্থানে পোস্টার সরাতে দেখা গেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অতিরিক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপক খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম পলাশী মোড় থেকে এসব পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন অপসারণের কাজ শুরু করেন।

জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন দফায় দফায় নির্দেশ দিয়েছে আগাম প্রচারসামগ্রী অপসারণের। কিন্তু তা সরানো হয়নি। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে, গত রবিবার মধ্যরাতের আগে তা সরানোর কথা ছিল। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুর, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, কাকরাইল, কুড়িল, গুলশানসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী পোস্টার চোখে পড়েছে। প্রায় সব এলাকায় পোস্টার ছাড়াও লাগানো ছিল ব্যানার ও ফেস্টুন।

নির্বাচন কমিশন সর্বশেষ নির্দেশনায় বলেছে, ‘১৮ নভেম্বর রাত ১২টার মধ্যে মার্কেট, রাস্তাঘাট, যানবাহন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ অন্যান্য জায়গায় যাদের নামে পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, ফেস্টুনসহ প্রচারসামগ্রী রয়েছে তাদের এবং যেসব ব্যক্তি বা যৌথ মালিকানাধীন ভবন, প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, যানবাহন ও স্থাপনায় প্রচারসামগ্রী রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠান ও মালিকদের নিজ নিজ উদ্যোগে এবং নিজ খরচে তা অপসারণ করতে হবে।’ এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানা না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী এ আদেশ প্রতিপালন না করার কারণে শাস্তির বিধান রয়েছে।

কালের কণ্ঠ’র বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারাও জানিয়েছেন আগাম প্রচারসামগ্রী এখনো ঝুলে বা সেঁটে থাকার তথ্য। গাজীপুর মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় অগ্রিম প্রচারণা সরিয়ে নেননি বহু প্রার্থী। শহর ও উপজেলার প্রধান সড়কগুলোর প্রচারণা সরানো হলেও অলিগলি ও সংযোগ সড়কগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন পোস্টার এখনো রয়েছে। নগরীর মুন্সিপাড়া, বিলাশপুর, বোর্ডবাজার ও টঙ্গীর অলিগলিতে গতকালও গাজীপুর-২ আসনের এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন পোস্টার দেখা গেছে। হায়দারাবাদ, পুবাইল, গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ও কালীগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকা ছেয়ে আছে গাজীপুর-৫ আসনের মনোনয়নপ্রার্থী মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর রঙিন পোস্টার। গাজীপুরের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা প্রচারসামগ্রী না সরালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আনাচে-কানাচে বিলবোর্ড ও পোস্টার এখনো রয়ে গেছে। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে ঢাকা-হোমনা সড়কে তিতাস উপজেলার গোমতী সেতু থেকে বাতাকান্দি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও তোরণ গতকালও ছিল। তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দিতে মহাজোটের সংসদ সদস্য মো. আমির হোসেন ভুঁইয়ার ফেস্টুন, আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সেলিমা আহমদ মেরী, বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী এ কে এম ফজলুল হক মোল্লা ও জেপি (মঞ্জু) থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. জসিম উদ্দিনের তোরণ রয়ে গেছে।  যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড গতকালও গাছে গাছে ঝুলছিল। বিভিন্ন প্রচারপত্র হাট-বাজার, সড়কের গাছ, প্রাচীর, গ্রামের পাড়া,-মহল্লায় সাঁটানো ছিল। বিভিন্ন ইউনিয়ন সড়কের গাছে গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারপত্র ঝুলতে দেখা গেছে। পুড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মন্দির, চুটারহুদা মন্দিরের সামনে, চৌগাছা কুঠিপাড়া এলাকায় গাছে ঝুলে রয়েছে প্রার্থীদের প্রচারপত্র।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস মোড়, ডাকবাংলো মোড়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বাঘরী বাজারে জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সম্ভাব্য পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলছিল। বাগেরহাটের শরণখোলা, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর, নড়াইল, কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পটুয়াখালী ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন স্থানেও প্রার্থীদের আগাম প্রচারসামগ্রী দেখা গেছে।



মন্তব্য