kalerkantho

বাম জোটের বৈঠকে ক্ষোভ

বেপরোয়া আচরণবিধি লঙ্ঘনে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাম গণতান্ত্রিক জোট মনে করে, আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই সরকারি দলের বেপরোয়াভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। গতকাল সোমবার জোটের সভায় এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জোটের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক মো. শাহ আলম। সভায় বক্তব্য দেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক।

সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকারি দল ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছে। তারা নানাভাবে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে। জনগণের টাকায় ‘থ্যাংকস টু পিএম’ শিরোনামে শেখ হাসিনার পক্ষে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই অনেক প্রার্থীর প্রচার খরচ নির্ধারিত সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়কে ছাড়িয়ে গেছে। জমকালো বিলবোর্ড, ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি প্রচারসামগ্রী এখনো সরানো হয়নি। আরো বলা হয়, বারবার বলা সত্ত্বেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এমনকি ইসি পরোক্ষভাবে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর পুলিশের বেআইনিভাবে খবরদারির ব্যাপারেও ইসি নীরব। তাই প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ ইসির অধীনে কাজ করছে, নাকি ইসি পুলিশের অধীনে কাজ করছে?

সভায় নেতারা বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। ফলে তাদের উচিত কাজ হচ্ছে জনগণের মনে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা। তাঁরা বলেন, অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির ন্যূনতম চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে না। এভাবে ইসির প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা অব্যাহত থাকলে, এবারের নির্বাচনও কার্যত একটা প্রহসনে পরিণত হবে।

মন্তব্য