kalerkantho

নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে তুলে ধরা হবে দেশের নিরাপত্তাচিত্র

ওমর ফারুক   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আরো অধিক প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তর ও মেট্রোপলিটন সদর দপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দফায় দফায় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আগামী ২২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠক থেকে সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়ার পর দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

অন্যদিকে কয়েক দিন আগে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে ক্রাইম কনফারেন্সে রাজধানীর প্রত্যেক বিভাগের ডিসি, এডিসি, ওসিরা উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় কোন থানায় অপরাধের চিত্র কি, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্বরত এলাকার অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। ওই কনফারেন্সেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। ডিএমপি কমিশনার নির্দেশ দেন, নির্বাচন আচরণবিধি কারা কিভাবে ভাঙছে সেগুলোর তথ্য নিতে। নির্দেশ মতো রাজধানীতে দায়িত্বরত মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সে সব তথ্য নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এসব তথ্য নিয়ে আলোচনা করে নির্দেশ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দাগি আসামি ও অগ্নিসন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপরতা বাড়িয়েছে। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল বর্তমানে তারা কে কোথায়, কী করছে। এ ছাড়া পলাতক দাগি আসামিরা নির্বাচনের সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সারা দেশে কারা কিভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙছে তার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের টহল বাড়ানোসহ রাজধানীর প্রবেশদ্বারগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। গভীর রাতেও রাজধানীতে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ও র‌্যাব। কাউকে সন্দেহ হলে দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হচ্ছে দাঙ্গা দমনের জন্য পুলিশের সাঁজোয়া যান, জলকামানসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে কূটনৈতিক এলাকায়। জঙ্গিদের গতিবিধি লক্ষ রাখতে গোয়েন্দারা বিশেষ নজরদারি রাখছে দেশব্যাপী।  দেশের যেসব এলাকায় গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে সে সব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ওই সব এলাকায় যারা অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিষয়ে খোঁজ রাখছে পুলিশ। মামলার আসামি হলে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশ বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে।  সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরো দেশের কোন কোন এলাকা বেশি নাজুক তা বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ নিজেকে নিরাপদে রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য কিছু দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। 

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপস) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগামী ২২ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক আছে। সেখানে দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। সে অনুযায়ীই দেশব্যাপী নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলার আসামি গ্রেপ্তার করা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

পুলিশের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি অফিসের সামনে লোকজন আসছিল। সেদিন হঠাৎ পুলিশের ওপর এভাবে হামলা করে বসবে তেমনটা মাথায় ছিল না। পুলিশের দুটি গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পুলিশকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।’

এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয় দায়িত্ব পালনকালে হেলমেট, লেগ গার্ড ও বুলেট প্রুপ জ্যাকেট পরতে। দায়িত্ব পালনের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি কারা ভঙ্গ করছে  তার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।’

সূত্র জানায়, রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। রেলপথ, নৌপথ ও সড়কপথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য