kalerkantho


জাতীয় কমিটির বিবৃতি

নির্বাচনের আড়ালে জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যখন নির্বাচনী তৎপরতায় জনগণের মনোযোগ বাড়ছে, তখন জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা থেমে নেই। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এই দাবি করেছে। সংগঠনটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী এসব তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক যুক্ত বিবৃতিতে এই দাবি জানান।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, জনমতের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। পিএসএমপি ২০১৬-এর অধীনে প্রাণবিনাশী ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভর কয়লা, পারমাণবিক ও এলএনজিসহ বিভিন্ন প্রকল্প দেশের জন্য ভয়ংকর বিপদ ও বোঝা তৈরি করছে। বিভিন্ন অপতৎপরতায় চট্টগ্রাম বন্দরও হুমকির মুখে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, যথাযথ স্বচ্ছতা ছাড়াই একদিকে বন্দর ব্যবহারে ভারতকে অবাধ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরকে হুমকির মুখে ফেলে কর্ণফুলী নদীতে ভাসমান এলএনজি (তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল নির্মাণের তোড়জোড় চলছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সমীক্ষা না করেই চট্টগ্রাম বন্দরের মুখে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ বারবার আপত্তি জানালেও উচ্চপর্যায় থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। অথচ এতে দেশের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাবে, অর্থনীতির অন্যান্য খাতও চাপে পড়বে, ভর্তুকি ও ঋণের চাপও বাড়বে। এই এলএনজি টার্মিনালের কারণেই চট্টগ্রাম বন্দরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংস্থাকে অকার্যকর করে কমিশনের লোভে বিদেশি কম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত অনেক বেশি খরচে রাশিয়ান কম্পানি গাজপ্রমকে কাজ দেওয়া। আগেও গাজপ্রম দেশের ১৫টি কূপ খনন করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০টি কূপে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি খরচ হলেও সে তুলনায় গ্যাস পাওয়া যায়নি। বাকি পাঁচটির অবস্থাও ভালো নয়। সম্প্রতি আরো তিনটি গ্যাসকূপ খননের কাজ দেওয়া হয়েছে গাজপ্রমকে। বাপেক্সের আবিষ্কার করা ‘শাহবাজপুর’ ও ‘ভোলা নর্থ’ নামের দুটি গ্যাসক্ষেত্রে কূপ তিনটির অবস্থান। এসব তৎপরতা ও চুক্তির মাধ্যমে একদিকে দেশের জাতীয় সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করার চাপ তৈরি হচ্ছে।



মন্তব্য