kalerkantho


গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা

খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১০ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ মো. দিলজার হোসেন এই দিন ধার্য করেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। ওই মামলার রায় দেওয়ার পর গ্যাটকো মামলায় তাঁকে আর হাজির করা হয়নি। গত ৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওই দিন খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য আদালত হাজতি পরোয়ানা ইস্যু করে গত ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ওই দিনও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি পেছানোর আবেদন মঞ্জুর করে গতকাল দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু গতকালও রাজধানীর বকশীবাজারে স্থপিত আদালতে খালেদাকে হাজির করা হয়নি। তাঁর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সময়ের আবেদন করায় শুনানি হয়নি। সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া কালের কণ্ঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো কেলেঙ্কারির এই মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেন।

দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তাঁর আবেদনে হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেন। গত বছর হাইকোর্ট এই রুল খারিজ করে দেন। ফলে খালেদা জিয়াসহ সব আসামির বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী। তবে মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও এম কে আনোয়ার মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে।



মন্তব্য