kalerkantho


ভোট না পেছানোর সিদ্ধান্ত ইসির

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভোট না পেছানোর সিদ্ধান্ত ইসির

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ আর না পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট পেছানোর জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আবেদন, না পেছানোর পক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুক্তি এবং নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা বিচার বিশ্লেষণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ আগামী ৩০ ডিসেম্বরই একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ দুজন কমিশনার ভোট কয়েক দিন পেছানোর পক্ষে ছিলেন। কিন্তু অন্য একজন কমিশনার জানুয়ারিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক শীতের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিপক্ষে মত দেন। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন ভোট না পেছানোর পক্ষেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বৈঠক করে ইসি। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্যান্য কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেল সোয়া ৪টায় ইসির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস বিফ্রিংয়ে সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মাননীয় কমিশনের নিকট এসে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেছেন। সে জন্য আজকে নির্বাচন কমিশন তাঁদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করেছে এবং নিজেদের ভেতরে বৈঠক করেছে।’

সচিব বলেন, বৈঠক করে কমিশনাররা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে জানুয়ারি মাসে বেশ কয়েকটি আইনি ও সাংবিধানিক বিষয় আছে। হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে কাজগুলো করতে হবে। যেমন—পুনর্নির্বাচন, উপনির্বাচন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে তদন্ত করা, গেজেট প্রকাশ করা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ইত্যাদি। এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারির দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়ে থাকে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন থাকেন। সব দিক বিবেচনা করে এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নির্বাচন পেছানোর বিষয়টি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে ইসি। নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই বলে ইসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ অবস্থায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষক নয়, আমরা এ দেশের নাগরিক ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটারের বিষয়গুলো আগে বিবেচনা করব। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সব সময় আমরা স্বাগত জানাই।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে যে ১১টি দাবি জানান তার প্রথমটিই ছিল ভোট পিছিয়ে দেওয়ার। জোট নেতারা বলেছেন, জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হলে সেটা বিদ্যমান আইন ও সংবিধানের সঙ্গে কোনো রকম সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করে না।

ওই দিনই আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। আওয়ামী লীগ বলেছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে কোনো দেশের ভোটের তারিখ নির্ধারণ হতে পারে না। জানুয়ারিতে ভোট করতে গেলে আইন অনুযায়ী নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা আছে। এ ছাড়া জানুয়ারিতে স্কুল খুলে যাওয়া, বই বিতরণ, ইজতেমা এসব কারণেও ভোট পেছানো ঠিক হবে না।

ওই দিন বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল। এ দুই দাবি সম্পর্কে গতকাল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘শহরাঞ্চলে স্বল্প পরিসরে ইভিএম ব্যবহারে কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। আর সেনাবাহিনী মোতায়েনের পক্ষেই কমিশনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে কিভাবে, কবে মোতায়েন হবে, তা সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলাপ করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

সেনা মোতায়েন সম্পর্কে কমিশন সচিব আরো বলেন, ‘সকালে আমি বলেছিলাম ২ থেকে ১০ দিন আগে সেনাবাহিনী নামবে। আসলে আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা সেনাবাহিনীর জন্য ১০ দিন আগে থেকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করবেন। তবে নির্বাচনে কবে কখন, কিভাবে সেনা মোতায়েন করা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’



মন্তব্য