kalerkantho


সব প্রার্থী ও দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সিইসির নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের গতকাল বুধবার তিনি এ নির্দেশ দেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। দুটি বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা এতে উপস্থিত ছিলেন। সিইসি বলেন, কেউ যেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও থানার ওসির মধ্যে সমন্বয়ের তাগিদ দেন তিনি।

সিইসি কে এম নুরুল হুদা বলেন, প্রার্থীরা যে যেই অবস্থানে থাকুক না কেন, সবাইকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দিতে হবে। আইনগতভাবে যেন কেউ বঞ্চিত না হয়, কেউ যেন বাড়তি সুবিধা না পায়। যে যেই এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন, সেসব এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে। যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা সমস্যা হলে তাদের সাহায্য নেওয়া যায়।’ রিটার্নিং অফিসারদের আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন, প্রার্থী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার আহ্বান জানান তিনি। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতেও নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন সিইসি।

সূত্র জানায়, সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের জন্য গতকাল দিনভর কয়েকটি পর্বে নির্দেশনা দেওয়া হয় নির্বাচনী আইন ও বিধি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে। একজন কর্মকর্তা বৈঠকে জানতে চান, অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা সহাকারী রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা মানতে চান না। সে ক্ষেত্রে তাঁরা কী করবেন? জবাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারে আদেশ মানতে তারা বাধ্য। যদি কেউ তা না মানে তাহলে ইসিকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওয়াজ মাহফিল বা ১৬ ডিসেম্বরের সরকারি অনুষ্ঠানে কেউ যাতে ভোট চাইতে না পারে বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আজ সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল এবং আগামীকাল রাজশাহী রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিং করা হবে।

এদিকে নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারসামগ্রী অপসারণের সময় আরো তিন দিন বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, ‘নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচারসামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা আগামী তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ খরচে অপসারণ করতে হবে।’ এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।



মন্তব্য