kalerkantho


বগি লাইনচ্যুত

রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের রেল চলাচলে বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের রেল চলাচলে বিপর্যয়

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় গতকাল মালবাহী একটি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সৈয়দপুর হয়ে চিলাহাটি পর্যন্ত চলাচল করে আন্ত নগর ট্রেন ‘নীলসাগর’। সকাল ৮টায় কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময়। কিন্তু গতকাল বুধবার কমলাপুর থেকে এটি ছেড়ে যায় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে। টিকিট হাতে ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রী শওকত আলী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইন থেকে পড়ে গেছে। ফলে কমলাপুর থেকে ট্রেন ছাড়ছে না।

গতকাল বিকেল পৌনে ৬টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণকক্ষে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলসাগর ট্রেনটি তখন ঈশ্বরদী বাইপাস অতিক্রম করছিল। ওই সময় পর্যন্ত যাত্রা বিলম্ব ছিল পাঁচ ঘণ্টা ২১ মিনিট। যাত্রী শওকত আলী বঙ্গবন্ধু পূর্ব রেলস্টেশনে পৌঁছেন বিকেল ৪টায়। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেনটি ছাড়লে তাঁর পৌঁছার কথা ছিল সকাল ১১টার মধ্যে। ওই ট্রেনের আরেক যাত্রী জুঁই ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কমলাপুরেই টানা পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে।’

তেজগাঁওয়ে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইন থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় শুধু কমলাপুর থেকে নয়, দেশের বিভিন্ন স্টেশন থেকেও ট্রেনযাত্রা বিলম্বের মুখে পড়ে। সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে দুপুরে ছেড়ে আসা পারাবত ট্রেনটি গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা ১৩ মিনিট দেরিতে ছিল। তখন ট্রেনটি অবস্থান করছিল কুলাউড়ায়।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রওনা দেওয়ার পর গতকাল ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মালবাহী কনটেইনারের চারটি বগি লাইন থেকে পড়ে যায়। এর ফলে গতকাল ঢাকা থেকে সারা দেশের বিভিন্ন রেলপথে ট্রেনযাত্রা দুই থেকে ছয়-সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। ঢাকার কমলাপুুর থেকে তেজগাঁও রেলপথের একটি পথে শুধু ট্রেন চলাচল করে। অন্যটিতে চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলে ট্রেন চালাতে হয়েছে সীমিত আকারে। এ কারণে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। তবে বিকেল সোয়া ৫টার পর সারা দেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে জানান, ভোরে ধূমকেতু ট্রেনটি সময়মতোই ছেড়ে যায়। তারপর থেকে বিলম্বে পরিচালনা করতে হয়েছে ট্রেন। তবে সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামমুখী সোনার বাংলাসহ চারটি ট্রেন চলাচল করেনি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিলম্বে পড়ে মহুয়া, কর্ণফুলী, তিতাস, অগ্নিবীণা, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কমলাপুর থেকে তেজগাঁও স্টেশনের একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছিল। তাতে করে কম ট্রেন চালাতে হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে অচলাবস্থা 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বিক্রি চলাকালে দুপুর ১২টা থেকেই নয়াপল্টনসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে এসব এলাকার সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১টা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ওই সময় নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর, মগবাজার, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকা গণপরিবহন শূন্য হয়ে পড়ে। আবার কোথাও ছিল ছোট গাড়ির তীব্র জট।

সংঘর্ষের জেরে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুলের দিকে রাস্তার উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বিকেল সোয়া ৩টার পর যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

অন্যদিকে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কারণে গাবতলী-আজিমপুর সড়কের স্থানে স্থানে যানজট ছিল সকাল থেকেই।



মন্তব্য