kalerkantho


খুলনায় আলাউদ্দিন হত্যা মামলার চার্জশিট

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. মামুনসহ ৮ জন অভিযুক্ত

খুলনা অফিস   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খুলনার ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সরদার আলাউদ্দীন মিঠু ও তাঁর দেহরক্ষী নওশের গাজী হত্যা মামলায় আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক নাসির উদ্দিন ফারাজীর আদালতে গত রবিবার এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. মামুন রহমান, চরমপন্থী নেতা শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মাদ, শিমুল ভুঁইয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ওরফে মুক্তা, মনিরুল ইসলাম ওরফে পিটপিটে সুমন, তাইজুল ইসলাম রনি, দামোদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শিপলু ভূঁইয়ার ভাইপো মুশফিকুর রহমান রিফাত ভূঁইয়া, নিহত মিঠুর কথিত দেহরক্ষী শিমুল হাওলাদার ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হাসনাত রিজভী ওরফে মার্শাল ভুঁইয়া।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৫ মে রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিবির পোশাক পরিহিত চারজন ফুলতলা দামোদর এলাকার খুলনা-যশোর রোডে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর অফিসে যায়। দুটি শর্টগান ও দুটি পিস্তল হাতে হেলমেট পরা এই চার শ্যুটার প্রথমে মিঠুর দেহরক্ষী নওশের গাজীর বুকে দুই রাউন্ড গুলি করে। এরপর ভেতরের কক্ষে গিয়ে মিঠুর মাথায় শর্টগান ঠেকিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় মিঠুর শ্বশুর সৈয়দ সেলিমসহ আরো দুজন গুলিবিদ্ধ হন। হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর মিঠুর ছোট ভাই সরদার রাজ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে ফুলতলা থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলতলা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম রনি, মুশফিকুর রহমান রিফাত ভূঁইয়া, শিমুল হাওলাদার ও হাসনাত রিজভী ওরফে মার্শাল ভুঁইয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের অর্থ জোগানদাতা ও কিলিং মিশনের পরিচালকের নাম প্রকাশ করে। সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতার দ্বন্দ্বে ড. মামুন রহমানের (প্রবাসী) ৩০ লাখ টাকা অর্থায়নে কিলিং মিশনের প্রধান চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করে বলে জানানো হয়। চুক্তি মোতাবেক হত্যাকাণ্ডের আগেই শিমুলের কাছে ২০ লাখ টাকা পৌঁছে দেন হাসনাত রিজভী মার্শাল ভূঁইয়া।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৯৯৮ সালে মিঠুর পিতা দামোদর ইউপির চেয়ারম্যান সরদার আবুল কাশেম ও ২০১০ সালে তাঁর বড় ভাই একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার আবু হত্যার শিকার হন।



মন্তব্য