kalerkantho


ইইউ পার্লামেন্ট

কাল বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ভোট

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইউরোপীয় পার্লামেন্টে (ইপি) আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং এসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্রান্সের স্ত্রাসবোর্গে ইইউর পার্লামেন্টে গত সোমবার পরবর্তী চার কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী, প্যারিস সময় আগামীকাল সকালে (বাংলাদেশ সময় দুপুরে) মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন থেকে বিচ্যুতি শীর্ষক সেশনে যথাক্রমে ভিয়েতনাম, বিশেষ করে ওই দেশটির রাজনৈতিক বন্দি পরিস্থিতি এবং কিউবা ও বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর এই দেশগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট ‘নন-লেজিসলেটিভ’ (আইন নয় এমন) প্রস্তাবের ওপর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা (এমইপি) বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে মানবাধিকার ও শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। এ ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে গুম-খুন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

এমইপিরা এবারের আলোচনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন। তাঁদের আলোচনায় এর আগে বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আলোচনা ও গৃহীত প্রস্তাবগুলোর প্রসঙ্গও আসতে পারে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে নির্বাচনের পরপরই ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গৃহীত একটি প্রস্তাবে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ওই প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছিল, যেসব দল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে তাদের নিষিদ্ধ করা উচিত। ওই প্রস্তাবে বৈধ সব রাজনৈতিক দল নিয়ে দ্রুত নির্বাচনসহ ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে, এমন নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য সব উপায় খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন্তব্য করা হয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এসব আলোচনা-বিতর্ক অনুষ্ঠান, প্রস্তাব উত্থাপন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন মহলের তদবির, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কাজ করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এমইপিরাও তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে বক্তব্য দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশ বিষয়ে যেসব প্রস্তাব গ্রহণ করেছে সেগুলো ছিল ‘নন-বাইন্ডিং’ (পালনে বাধ্যতামূলক নয়)। তারা প্রস্তাব গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে এর অনুলিপি বিতরণ করে। এটি অনেক ক্ষেত্রেই পরামর্শ বা চাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের দ্বিদলীয় ককাস ‘টম ল্যানটোস মানবাধিকার কমিশনেও’ বাংলাদেশে নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিফিংয়ে ওই কমিশনের দুজন সহসভাপতি স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন, বেসরকারি সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন।



মন্তব্য