kalerkantho


বিএনপির অংশগ্রহণ নির্বাচন সুষ্ঠু করার গুরুত্ব বাড়িয়েছে

মেহেদী হাসান   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপির অংশগ্রহণ নির্বাচন সুষ্ঠু করার গুরুত্ব বাড়িয়েছে

বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মূল বার্তাই ছিল—‘নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। এবার এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আপনারা ভূমিকা রাখুন।’ গত সোমবার বিকেলে ঢাকায় অনুঠিত ওই বৈঠকের পর কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। এখন এই নির্বাচনের গুণগত মান বাড়ানোর সময় এসেছে।

নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসগুলোয়। সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছে দূতাবাসগুলোর রাজনৈতিক বিভাগ। বড় দিন ও খ্রিস্টীয় নববর্ষ ঘিরে কূটনীতিকদের ব্যক্তিগত ছুটির পরিকল্পনাও কাটছাঁট করা হচ্ছে।

বিদেশি কূটনীতিকদের পর্যবেক্ষণ এড়াতে প্রথমে বড় দিনের প্রাক্কালে এবং এখন নববর্ষের প্রাক্কালে ভোটের দিন ঠিক করা হয়েছে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পশ্চিমা এক কূটনীতিক হেসে বলেন, স্থানীয় রাজনীতি সম্পর্কে ভালো বলতে পারেন এ দেশের রাজনীতিকরাই। বিএনপির ওই অভিযোগ তাদেরও নজরে এসেছে। তবে বাংলাদেশে আগেও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশিদের কখন সুবিধা হয় তা নয় বরং এ দেশের সুবিধাজনক সময়েই নির্বাচন হওয়া উচিত। আর এ বিষয়ে বাংলাদেশই সিদ্ধান্ত নেবে।

নির্বাচনের কারণে ছুটির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে ওই কূটনীতিক বলেন, জাতীয় নির্বাচন তো আর প্রতিবছর হয় না। দূতাবাসগুলো তাদের যে কর্মীদের নির্বাচনের সময় দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন মনে করবে তাদের অবশ্যই রাখবে। সে অনুযায়ী ছুটি পুনর্বিন্যাস করা হবে।

জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের কারণে ছুটি পাবেন না—এমনটি ধরে নিয়েই অনেক কূটনীতিক তার আগে বা পরে ছুটি নিচ্ছেন, যাতে তাঁরা নির্বাচনের সময় কর্মক্ষেত্রে থাকতে পারেন। একাধিক পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশীয় একটি দেশের এক কূটনীতিক সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপির অংশগ্রহণে নির্বাচনপ্রক্রিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু করার বিষয়ে সরকারের ওপরও চাপ বেড়েছে। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারকরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস অনেক দিন ধরেই দিয়ে আসছেন। এখন সেই আশ্বাস বাস্তবায়নের দিকেই দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে ওই কূটনীতিক বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় টিকে থাকতে হলে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার অর্থ আরো পাঁচ বছর পিছিয়ে পড়া এবং নানা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়া। সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু না হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিকভাবে প্রবল সমালোচিত হবে। এ ছাড়া বিএনপিও বলতে পারবে যে এমন আশঙ্কা করেই তারা আগে নির্বাচন বর্জন করেছিল। তাদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিষয়ে বিদেশি দূতাবাসগুলোর অভিন্ন অবস্থান রয়েছে। সহিংসতাকে কেউ সমর্থন করছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জন না করার সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশসহ সবার জন্য মঙ্গলজনক হিসেবে উল্লেখ করে কূটনীতিকরা বলেছেন, এ দেশে অস্থিতিশীলতা কেউ চায় না। রাজনৈতিক দলগুলো বিদেশিদের চাপ ছাড়া নিজেরাই আলোচনা-সংলাপ করেছে। এখন সবাই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো বেশ ইতিবাচক।



মন্তব্য