kalerkantho


হুমায়ূনভক্তদের পাঠশালা

ফখরে আলম, যশোর   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হুমায়ূনভক্তদের পাঠশালা

গোল হয়ে বসে তারা বই পড়ে। আলোচনা করে গল্পের বইয়ের খুঁটিনাটি নানা বিষয় নিয়ে। তবে তাদের পাঠচক্রের কেন্দ্রবিন্দু একজন লেখক। শুধুই হুমায়ূন আহমেদের বই পড়তে তারা গড়ে তুলেছে বিশেষ সার্কেল। যশোরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী এ পাঠচক্রের সদস্য। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন মৃত্যুদিন উদ্‌যাপনে তারা ব্যতিক্রমী আয়োজন করে থাকে।

পাঠচক্রের দলনেত্রী যশোর এম এম কলেজের ইংরেজি শেষ বর্ষের ছাত্রী সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে কয়েক বন্ধু মিলে স্টাডি সার্কেল গড়েছি। এর চার বছর পর বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। হুমায়ূন স্যার অনেক সহজ করে লেখেন। তাঁর মাধ্যমেই আমাদের বই পড়ায় হাতেখড়ি। তাঁর লেখা ৩৬০টি বইয়ের মধ্যে আমাদের সংগ্রহে আছে ২২৫টি, যা পড়া শেষ হয়েছে।’

সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী আফরোজা খাতুন বলেন, ‘স্যারের প্রকৃতি দর্শন খুবই গভীর। আমি তাঁর কাছ থেকেই বৃষ্টির শব্দ শোনা শিখেছি।’

যশোর শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় ‘স্বপ্ন দেখো’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে প্রতি মঙ্গলবার একত্রিত হয় হুমায়ূন ভক্তরা। তারা বই পড়ার পাশাপাশি নানা তথ্য নিয়ে আলোচনা করে। ন্যূনতম ১৫-২০ জন নিয়মিত অংশ নেয় পাঠচক্রে। পাঁচজন করে দল গঠন করে একটি বই পড়ে। একজন পড়ে, অন্যরা শোনে। এরপর সেই বই নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিযোগিতা হয়, পুরস্কৃত করা হয় সদস্যদের।

স্বপ্ন দেখোর সভাপতি জহির ইকবাল নান্নু বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ কার্যত আমাদের নায়ক। তিনি আমাদের প্রকৃতি প্রাণিজগৎ নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে বই পড়া শিখেছি। নিজেদের চাঁদার টাকায় আমরা বন্ধুরা মিলে স্টাডি সার্কেল করে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করছি।’



মন্তব্য