kalerkantho


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

অংশগ্রহণমূলক হলেই ভোটের খরচ কমবে!

কাজী হাফিজ   

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। তার পরও ১৪৭ আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যয় হয় ৩৩৩ কোটি টাকার ওপরে। প্রতি আসনের জন্য গড় ব্যয় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকার কাছাকাছি। আর এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং ৩০০ আসনেই ভোটগ্রহণের সম্ভাবনার মধ্যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা। প্রতি আসনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় দুই কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ৭০২ কোটি টাকার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। নির্বাচন কর্মকর্তা বলছেন, গত পাঁচ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে এই বাজেট গত নির্বাচনের চেয়ে কম। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে এবার বরাদ্দ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল তিন হাজার টাকা করে। এবার তা চার হাজার টাকা করা হয়েছে। সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের ভাতা ছিল  দুই  হাজার টাকা করে। এবার করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। পোলিং অফিসারদের ভাতা ছিল দেড় হাজার টাকা করে। এবার তা দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের ব্যয় ছিল দুই হাজার টাকা করে। এবার তা তিন হাজার টাকা করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বেষ্টনী, অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র ও অস্থায়ী ভোটকক্ষ  স্থাপনের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

এ বাস্তবতায় গত নির্বাচনে ব্যয়ের চেয়ে এবারের বাজেট কি কম নয়—এ প্রশ্নে সচিব বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪৭ আসনে ভোট হলেও অন্য আসনগুলোর জন্য কোনো ব্যয় হয়নি তা বলা যাবে না। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে কমিশন সচিবালয়ের অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা কম থাকায় এ খাতে ব্যয়ও কিছুটা কমে আসে। আর একপক্ষীয় ও বিরোধপূর্ণ নির্বাচনে এ ব্যয় বাড়ে। এই বিবেচনা থেকেই এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা খাতে গত নির্বাচনের মতো বাড়তি ব্যয় হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক এবং শান্তিপূর্ণ না হয় তাহলে বাজেটে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, চরম বিরোধপূর্ণ অশান্ত পরিবেশের কারণে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নির্বাচনী বাজেট নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৪০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হয় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য। তবে ১৫৪টি আসনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন না থাকায় ব্যয় কিছুটা কমে ৩৩৩ কোটি সাত লাখ ৭৬ হাজার ৯৬ টাকায় দাঁড়ায়। নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ ব্যয় ছিল ১৩৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৫ টাকা। আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ আট হাজার ৬৩১ টাকা।

দশম সংসদ নির্বাচনের এই ব্যয় সম্পর্কে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ওই নির্বাচনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’  নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশি ব্যয় হয়। যেমন—ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর জন্য যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হয়েছিল তা অন্য নির্বাচনে হয়নি।  

জানা যায়,  অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূল অবস্থার কারণে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচন পরিচালনা ব্যয়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার গুণ বেশি।

অন্যদিকে সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নির্বাচনগুলোয় নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়ের চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল দ্বিগুণ বা তারও কম।

কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল সাত কোটি ৬২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০১ টাকা। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ২৯ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৭২৯ টাকা।

অথচ ওই নির্বাচনের কয়েক মাস পর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় যেখানে ছিল ১১ কোটি ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৩৪৭ টাকা, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ১৮ কোটি ৭৯ লাখ এক হাজার টাকা।

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল ৩০ কোটি ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৮ টাকা। অন্যদিকে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ৪২ কোটি সাত লাখ ৮৩ হাজার ৩৬২ টাকা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছিল ৬৭ কোটি ২১ লাখ চার হাজার ৬৭২ টাকা। অন্যদিকে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যয় ছিল ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৪৬ হাজার ১৪ টাকা।



মন্তব্য