kalerkantho


কলড্রপ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের ব্যাখ্যা চেয়েছে বিটিআরসি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



জাতীয় সংসদে মোবাইল ফোনে কলড্রপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর টনক নড়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির। গতকাল সোমবার মোবাইল ফোন অপারেটরদের পাঁচ দিন সময় দিয়ে কলড্রপের বিদ্যমান অবস্থা এবং এসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

গত রবিবার জাতীয় সংসদে কলড্রপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সংসদের পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একবার কথা বলতে চার-পাঁচবার কল করতে হয়। এই কলড্রপের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য টেলিযোগাযোগমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীর এ অভিযোগের পরদিনই গতকাল বিটিআরসি এ বিষয়ে সব মোবাইল ফোন অপারেটরের পরিচালক/চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার/চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। 

বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক মো. গোলাম রাজ্জাক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কলড্রপ সংক্রান্ত অভিযোগ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে চলমান জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। দিন দিন টেলিযোগাযোগ সেবার মান নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেবার মান নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে বিটিআরসির একটি অগ্রাধিকারযোগ্য কার্যক্রম। বিটিআরসি এরই মধ্যে ড্রাইভ টেস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেটরের সেবার মান নিয়মিত পরিমাপ করছে। গ্রাহক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলড্রপের পরিমাণ বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত সীমার (২ শতাংশ) মধ্যে থাকা আবশ্যক। অপারেটরদের দাখিল করা মাসিক প্রতিবেদনে তাদের কলড্রপ নির্ধারিত সীমার মধ্যে আছে দাবি করলেও সম্প্রতি এ বিষয়ে গ্রাহক পর্যায়ে অনেক অভিযোগ আছে। এ ছাড়া কোনো কোনো অপারেটরের নেটওয়ার্কে একটি কলে চার-পাঁচবার কলড্রপ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। এমতাবস্থায় আপনার নেটওয়ার্কে সামগ্রিক প্রকৃত কলড্রপের অবস্থা এবং এসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আপনাদের ব্যাখ্যা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিটিআরসিতে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো।’

২০১৪ সালের শেষের দিকে গ্রামীণফোন আর বাংলালিংক ঘোষণা দেয় ড্রপ হওয়া ভয়েস কলের জন্য তারা তাদের গ্রাহকদের ৬০ সেকেন্ড টক টাইম ক্ষতিপূরণ দেবে। অর্থাৎ কলড্রপ হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ৬০ সেকেন্ড বিনা মূল্যে কথা বলতে পারবে। বাংলালিংক এ ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করে ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে আর গ্রামীণফোন  শুরু করে ওই বছরের ১ অক্টোবর থেকে। এ উদ্যোগ সে সময় ভারতে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশ পারলে ভারতের মোবাইল ফোন অপারেটররা কেন তা পারবে না। ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকায় বাংলাদেশের সেই উদ্যোগের প্রশংসা করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো ভারতের  মোবাইল ফোন অপারেটররাও এ উদ্যোগ নিতে পারে। ভারতের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে। সেসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ভারতের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ট্রাই’ সে দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতি কলড্রপের জন্য গ্রাহকদের এক টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ জারি করে। ওই সময়ই জানা যায়, বাংলাদেশে গ্রামীণফোন আর বাংলালিংক কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করলেও তা আর চালু থাকেনি। পরে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কলড্রপের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং এর বেশি কলড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের জুলাই মাস থেকে এ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় ওই বছরের ২২ আগস্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে গ্রাহকদের কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দিতে তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু সে তাগাদায়ও সুফল মেলেনি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে গণশুনানির আয়োজন করলে ওই শুনানিতে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে কলড্রপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। দেশে ফোরজি সেবা চালু হওয়ার পর সম্প্রতি কলড্রপ আরো বেড়েছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে।



মন্তব্য