kalerkantho


মৌটুসিকে আর দেয়াল টপকে স্কুলে যেতে হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দরিদ্র কৃষককন্যা, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মৌটুসির স্কুলে যেতে বাধা দূর হয়েছে।  প্রতিবেশীরা দেয়াল তুলে ঘিরে ফেলায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়া পরিবারটির এই ছোট্ট মেয়েটিকে এক বছর ধরে মই বেয়ে দেয়াল টপকে স্কুলে যেতে হতো। এ সমস্যা সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের দরবারে গত এক বছরে পরিবারটি ধরনা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। এ ঘটনা নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসন গত শনিবার সালিস বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পরিবারটির বের হওয়ার রাস্তা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

জানিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌটুসি। খোকসা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা সে। বাবা কৃষক মাফুজুর রহমান। প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশীরা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করার পর থেকে অবরুদ্ধ ছিল পরিবারটি।

গত মঙ্গলবার এ ঘটনা নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জেলা পুলিশ প্রশাসন থানায় আরো এক দফা সালিস ডাকে। তবে দেয়াল তুলে বাড়ির রাস্তা বন্ধ করা প্রতিবেশীরা সময়মতো সেখানে হাজির হয়নি। সে রাতেই পুলিশ ভুক্তভোগী মাফুজুর রহমানের কাছ থেকে নতুন করে আরেকটি অভিযোগ গ্রহণ করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

গত শনিবার সকালে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর-এ-আলম, পৌরসভার মেয়র তারিকুল ইসলাম ও থানার ওসি মেহেদী মাসুদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে সমঝোতা বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে মৌটুসির বাড়ির দক্ষিণ দিকের প্রতিবেশী সনাতন বিশ্বাসের জমির পূর্ব পাশের আইল দিয়ে চার ফুট চওড়া রাস্তা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। বিনিময়ে মৌটুসির বাবাকে চলাচলের জন্য তাঁর জমি থেকে ১.২৬ শতাংশ পরিমাণ জমি ছেড়ে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের দলিলে দুই প্রতিবেশী স্বাক্ষর করে। এরপর তাৎক্ষণিক সীমানাপ্রাচীর ভেঙে মৌটুসির পরিবারের জন্য রাস্তা মুক্ত করে দেওয়া হয়।

মৌটুসি বলেছে, এখন আর দেয়াল টপকাতে গিয়ে তাকে হাত-পায়ে আঘাত পেতে হবে না। বিনা বাধায় এখন স্কুলে যেতে পারবে।



মন্তব্য