kalerkantho


স্বাভাবিক জীবনে ফেরা জলদস্যুদের পুনর্বাসনের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘মহেশখালী-কুতুবদিয়াকে জলদস্যুমুক্ত করেই ছাড়ব। যে জলদস্যুরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরত এসেছে, তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে বলব খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে তা লঘু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

গতকাল শনিবার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অস্ত্র ও গুলিসহ ৪৩ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গতকাল দুপুর ১২টায় মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণ করা জলদস্যু বাহিনীগুলো হলো কুতুবদিয়ার রমিজ বাহিনী, মহেশখালীর রমিজ বাহিনী, নুরুল আলম ওরফে কালাবদা বাহিনী, আইয়ুব বাহিনী এবং আলাউদ্দিন বাহিনী। এসব বাহিনীর ৪৩ সদস্য দেশি-বিদেশি ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাত হাজার ৬৩৭ রাউন্ড গোলাবারুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে হস্তান্তর করে।

র‌্যাব-৭-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক ও সাইমুম সরওয়ার কমল, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময়সভায় ইয়াবা কারবারির আনাগোনা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। কক্সবাজার থেকেও ইয়াবা কারবারিদের নির্মূল করা হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের একটি হোটেলে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়সভায় এসব বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী কক্সবাজারের জনপ্রতিনিধিদের ইয়াবা নির্মূলে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত সুধীদের আসনের সামনের সারিতে বসা ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডন ও আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সাবেক বিএনপি নেতা টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আহমদ।

ইয়াবা ডন হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জাফর আহমদের ৩ ছেলেও ইয়াবা কারবারির তালিকায় রয়েছে। তবে জাফর আহমদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তাই মন্ত্রীর মতবিনিময়সভায় এসেছি।’

 

 

 



মন্তব্য