kalerkantho


মির্জাপুরে ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় গর্ভবতীর মৃত্যুর অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলা ও গাফলতির কারণে কৃষ্ণা বিশ্বাস কাজল (২৫) নামে এক গর্ববতীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাপুর উপজেলা সদরের মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয় বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন।

কাজল বিশ্বাস উপজেলা দেওহাটা এ জে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিড়্গক ও পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা ও রাধা বল্লভ বিশ্বাসের মেয়ে। সে মানিকগঞ্জ জেলার জামশা গ্রামের লিটন সরকারের স্ত্রী। লিটন সরকার একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করেন।  

জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টায় ৮ মাসের গর্ববতী কাজল বিশ্বাস ব্যথা ও বমিভাব নিয়ে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে অবস্থিত বেসরকারি প্রাইভেট হাসপাতাল মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. রেজওয়ানা পারভীন কাজল বিশ্বাসকে ব্যথা, বমি, গ্যাস্টিকসহ চারটি ইনজেকশন দেন। তাছাড়া রোগীর ব্যবস্থাপত্রে কয়েকটি পরীক্ষা লিখে চলে যান। পরে হাসপাতালের নার্সরা কাজল বিশ্বাসকে স্যালাইন দেন। এরপর ক্রমেই কাজল বিশ্বাসের অবস্থা অবনতি ঘটতে থাকে। পরে হাসপাতালের নার্সরা কাজল বিশ্বাসকে তাড়াহুড়া করে বুধবার রাতেই কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বৃহস্পতিবার সকালে কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিত্সকেরা কাজল বিশ্বাসের ডায়বেটিক পরীক্ষা করে দেখতে পান ডায়বেটিকের পরিমান ৩৭ পয়েন্ট। পরে চিকিত্সকেরা উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বারডেম হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা কাজল বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সা না পাওয়ায় গর্ববতীর করুন পরিণতি হয় বলে বারডেমের কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা কাজলের আত্মীয়দের জানান। এ তথ্য কাজল বিশ্বাসের কাকা মুক্তিযোদ্ধা দুর্লভ বিশ্বাস শুক্রবার সন্ধায় স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। 

কাজল বিশ্বাসের কাকী মির্জাপুর সরকারি সদয় কৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা আলো রানী বিশ্বাস জানান, মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালের (প্রাইভেট) ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল মালিকদের অবহেলা ও চরম গাফলতির কারণে কাজলের মৃত্যু হয়েছে। এদের যাথাপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক রেজওয়না পারভীন জানান, আমি ওই ক্লিনিকের খন্ডকালীন চিকিত্সক। কাজল বিশ্বাসকে চিকিত্সা দিয়ে সন্ধায় বাসায় চলে আসি। পরে কে তাকে চিকিত্সা দিয়েছে এবং কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার্ড করেছে তা আমার জানা নেই।  মির্জাপুর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি জেনে তিনি হতবাক হন। প্রত্যেক রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিত্সা দেয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।



মন্তব্য