kalerkantho


পতেঙ্গা সৈকতে প্রতিমা বিসর্জনে লাখো ভক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



শারদীয় দুর্গোত্সবের বিজয়া দশমীতে গতকাল শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয় বন্দরনগরের পতেঙ্গা সৈকত এলাকা। প্রতিমাবাহী ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যান গাড়ি এদিন দুপুর থেকে মহাসমারোহে রওনা হয় সমুদ্রসৈকতের দিকে। দুর্গতিনাশিনী দেবী ‘মা দুর্গা’কে বিদায় জানাতে আসে নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিকেল নাগাদ কানায় কানায় ভরে যায় সৈকত এলাকা। ভক্তরা ঢোলের বোল, ঢাকের বাদ্য আর আবির-সিঁদুরের খেলায় মেতে ওঠে।

চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলায় এবার এক হাজার ৮২৫টি এবং নগরে ২৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে এসে মা দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে মা দুর্গাকে বিদায় জানায় লাখো ভক্ত।’ তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রতিমা নিরঞ্জনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। র্যাব, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। সে সুবাদে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ‘প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ঢাক-ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে, নেচেগেয়ে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে পুণ্যার্থীরা ট্রাকে মা দুর্গাকে নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আসে বিদায় জানাতে। দুপুর ১২টা থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়, যা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।’

জেলার হাটহাজারীর ফতেয়াবাদেও ছিল প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে উত্সবমুখর পরিবেশ। দুপুরের পর থেকে ফতেয়াবাদের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিকেলে ফতেয়াবাদ পল্লী সংগঠন মাঠে এলাকার সব পূজামণ্ডপ থেকে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে হাজির হলে মিলনমেলায় পরিণত হয় এলাকাটি। সন্ধ্যার পর সেখান থেকে নিজ নিজ মণ্ডপে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে স্থানীয় পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সকালে প্রত্যেক পূজামণ্ডপে বিজয়া দশমীর অঞ্জলি গ্রহণ করে ভক্তরা। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট কালুরঘাট, অভয়মিত্র ঘাট, গঙ্গাবাড়ি, কাট্টলীর রাসমণি ঘাট, জেলার মন্দাকিনীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

 



মন্তব্য