kalerkantho


গোপালপুরে আ. লীগের সভা নিয়ে উত্তেজনা

এমপিপুত্রের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির শনিবারের জনসভাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলের একটি অংশ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাবেশের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ মিছিল করে। গোপালপুর ও ভূঞাপুরে নির্মিত তোরণ ও বিলবোর্ড ভেঙে তাতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য তাঁর ছেলে মনোনয়নপ্রত্যাশী খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিতে একক সিদ্ধান্তে জনসভা ডেকেছেন। গোপালপুর পৌর শহরে বের করা প্রতিবাদ মিছিলটি একপর্যায়ে জুতা মিছিলে রূপ নেয়।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠাণ্ডু বলেছেন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে খন্দকার আসাদুজ্জামান এমপি তাঁর ছেলে মশিউজ্জামান রোমেলকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য কৌশলে এ জনসভার আয়োজন করেছেন। জনগণ  এ ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না। তাই এ জনসভাকে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রত্যাখ্যান করেছে।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি বলেন, জনগণ এ ষড়যন্ত্রমূলক জনসভাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁরও অভিযোগ, আসাদুজ্জামান এমপি জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে নিজের অযোগ্য পুত্রকে দলের প্রার্থী হিসেবে কৌশলে ঘোষণা দেওয়ার জন্য একজন কেন্দ্রীয় নেত্রীকে ভুল বুঝিয়ে এ জনসভার আয়োজন করেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এ জনসভা চাপিয়ে দিয়েছেন। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সন্ধ্যায় তারা সংসদ সদস্য ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল করেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন জানান, জনসভার তারিখ ঠিক আছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার এবং অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী তানভীর হাসান ছোট মনির লোকজন জনসভার বিরোধিতা করছে। উত্তজেনার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নামে গত ১৩ অক্টোবর হেমনগর কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভা আহ্বান করা হয়। প্রধান অতিথি করা হয় ডা. দীপু মনিকে। কিন্তু দলের সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামান নিজ পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে ওই জনসভায় দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেবেন মর্মে প্রচার থাকায় দলে কোন্দল দেখা দেয়। এ অবস্থায় তারিখ বদল করে একবার ১৬ অক্টোবর, পরে ১৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ কোন্দল নিরসন করতে অপারগতা প্রকাশ করায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মতি ছাড়াই স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামানের একক সিদ্ধান্তে শনিবার ২০ অক্টোবর জনসভার দিন ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে আওয়ামী লীগের অন্য চার মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

 

 



মন্তব্য