kalerkantho


শোকেস কোরিয়া উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী

ড. কামালের সামর্থ্য জানা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপির দুঃসময়ে ড. কামাল হোসেন দলটিকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানসহ অনেকের দণ্ড হয়েছে। বিএনপির এখন দুঃসময় যাচ্ছে। ড. কামাল তাদের উদ্ধার করার জন্য এসেছেন। কিন্তু তাঁর সামর্থ্য আমাদের জানা আছে।’ গতকাল শুক্রবার শোকেস কোরিয়া ২০১৮ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দুই দিনব্যাপী ওই প্রদর্শনীর আয়োজন করে কোরিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই)।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত বৃহস্পতিবার বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সাত দফা দাবি তুলে ধরে। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বিদেশিরা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। এর বাইরে কূটনীতিকদের সঙ্গে যত বৈঠকই হোক না কেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাব।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একদল লোক বাংলাদেশকে অকার্যকর করতে চায়। কিছু নীতিহীন লোক দেশে গণতন্ত্রের কথা বলে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ড. কামাল তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘আদর্শ ছাড়া কোনো লক্ষ্য পূরণ হয় না। তাদের মূল লক্ষ্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘একটি দাবি তারা করতে পারত, সেটি হলো—‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেন’।”

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, সেসব দেশেও নির্বাচন হয় এবং কারচুপির অভিযোগ ওঠে। একপক্ষ আদালতে যায়। কিন্তু নির্বাচন বাতিল হয় না।

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, সরকার ও সরকারের নীতিমালার ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। হঠাত্ করে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম যেন না বাড়ে। নীতি কাঠামো যেন স্থিতিশীল থাকে—সে দাবি জানান তিনি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলমান থাকার জন্য সরকারের বর্তমান নেতৃত্ব কামিয়াব হবে বলে তিনি আশা করেন। শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘এ কথা বললে কেউ কেউ আমাকে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে আমি এটাকে পরোয়া করি না।’

ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং ইল অনুষ্ঠানে বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। এ সময় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশের ওপরে। কোরিয়া বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ভালো বন্ধু। এ দেশে প্রথম তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি বিনিয়োগ করে কোরিয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশে বেসরকারি ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করে কোরিয়া।

কেবিসিসিআই সভাপতি মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কোরিয়ান ইপিজেডের সভাপতি জাহাঙ্গীর সাদাত, কোরিয়ান ইলেকট্রনিক পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডং কন সন এবং শোকেস কোরিয়ার আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।

দুই দিনের এই প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন কম্পানির উত্পাদিত ইলেকট্রনিক পণ্য, তৈরি পোশাক, যন্ত্রপাতি, কাগজ, কেমিক্যাল, প্রসাধনী, অটোমোবাইলসামগ্রী। এলজি বাংলাদেশ, স্যামসাং, কিয়া মোটরস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১১টি কম্পানি এতে অংশ নিয়েছে।



মন্তব্য