kalerkantho


দুই শিশুর দায়িত্ব নিলেন পুলিশের দুই কর্তা

বরিশাল অফিস   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বরিশালে এক রিকশাচালকের ছেলেকে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তিসহ যাবতীয় শিক্ষাব্যয় বহন এবং এক নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মীর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোশারফ হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রহমতপুর গ্রামের রিকশাচালক মো. সেলিম হোসেনের ছেলে সাগর মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় ১০০৮তম স্থান অধিকার করে। কিন্তু সাগর অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারছিল না। খবর শুনে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর ভর্তিসহ শিক্ষার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন। সাগরের বাবা সেলিম বলেন, ‘সাগর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হতে পারবে ভাবতে পারিনি। ডিআইজি স্যার সেই ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তাঁকে যেন ভালো রাখেন এই দোয়া করি।’ ডিআইজি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার সকালে সাগরের ভর্তির জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছি। সাগরের যত দিন প্রয়োজন হবে লেখাপড়ার জন্য তাকে সহায়তা করা হবে।’

অন্যদিকে নগরীর কাশিপুর এলাকায় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের শিকার ১০ বছরের শিশু লামিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোশারফ হোসেন। লামিয়াকে পুলিশ গত সোমবার রাতে ব্যাংক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরীর ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

লামিয়ার বাবা মো. ইকবাল সরদার বলেন, ‘মেয়ের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তা দেখলেই বোঝা যায়। তার চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। লামিয়ার সব চিকিৎসার দায়িত্ব পুলিশের বড় (পুলিশ কমিশনার) স্যার করেছেন। তাঁর প্রতি কৃজ্ঞতার শেষ নাই।’ পুলিশ কমিশনার মোশারফ বলেন, ‘লামিয়ার ওপর যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। বিশেষ করে এই শিশুটির মা নেই। এ কথা শুনেই তার সব চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করি। লামিয়ার সুস্থ হতে যত দিন প্রয়োজন তত দিন তার চিকিৎসা ব্যয় আমরা বহন করব। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’

 



মন্তব্য