kalerkantho


আনসার সদস্যদের সঙ্গে তর্ক

মির্জাপুরে তিন যুবককে ধরে ১৫ হাজার টাকা নিলেন এসআই!

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘আমার স্বামী টিউবওয়েল গাড়ার (মিস্ত্রি) কাজ করে। প্রতিদিন কাজ করে ৫০০ টাকা পায়। আবার প্রতিদিন কাজও থাকে না। তার পরও আমার ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে ধার করে এনে পুলিশকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হলো।’ বুধবার রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সাহাপাড়া গ্রাম থেকে তিন যুবককে পুলিশ আটক করার পর তাঁদের ছাড়িয়ে আনার পর সাংবাদিকদের এই কথাগুলো বলেন যুবক পলাশের মা মুক্তারা বেগম।

জানা গেছে, পূজা দেখতে গিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে তর্কের জেরে মশিউর রহমান পলাশ ও তাঁর দুই বন্ধুকে ধরে থানায় নিয়ে যান মির্জাপুর থানার এসআই শফিকুল আলম। পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বারের সহায়তায় অর্থের বিনিময়ে তাঁদের থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন পলাশের মা-বাবা।

ভুক্তভোগী মশিউর রহমান পলাশ উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের ভাওড়া সরকারপাড়া গ্রামের টিউবওয়েল মিস্ত্রি জিন্নাহ মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি ফার্মেসিতে কাজ করেন। ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন।

পলাশের মা-বাবা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, পলাশ তাঁর দুই বন্ধু রোমন ও সানজিতকে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামে পূজা দেখতে যান। রাত ৯টার দিকে সাহাপাড়া গ্রামের একটি মণ্ডপের কাছে মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের তর্ক হয়। পরে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল আলম তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে পলাশের মা-বাবা থানায় গিয়ে এসআই শফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, তাঁরা তিনজন মদ পান করে আনসার সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া করেছেন। হাসপাতালে নিয়ে তাঁদের রক্তও পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এ জন্য তাঁদের ছাড়া যাবে না। পরে ভাওড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শাহিনুর মিয়া ও রাজীবের মাধ্যমে এসআই শফিকুল আলমকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেদের ছাড়িয়ে নেন বলে পলাশের বাবা জিন্নাহ ও মা মুক্তারা বেগম জানান।

ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন, ইউপি সদস্য শাহিনুর মিয়া ও রাজীব এসআই শফিকুল আলমকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে পলাশ, রোমন ও সানজিতকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত এসআই শফিকুল আলম জানান, অনসার সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া করার অপরাধে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জাপুর থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক বলেন, টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি তিনি জানেন না। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অমানবিক। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 



মন্তব্য