kalerkantho


জাফরুল্লাহ চৌধুরী বললেন রাষ্ট্র রোগগ্রস্ত হয়ে গেছে

নীরুর ‘মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘বিদ্বেষ ও বিভাজন’-এর রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন ‘মুভমেন্ট ফর জাস্টিস’। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক সাবেক ছাত্রদল নেতা সানাউল হক নীরু এই ঘোষণা দেন।

১২ দফা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে নীরু বলেন, ‘আমরা রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন চাই। একটি ইতিবাচক গণতান্ত্রিক ও সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা চাই। আমরা এই পরিবর্তনের প্রত্যাশা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হতে চাই।’

দলের জন্য ছাত্রজীবন থেকে কাজ করে যাওয়া নীরু নিজের দুঃখ-বেদনার কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আশির দশকের শেষ দিকে ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রদল থেকে নীরু বহিষ্কৃত হন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ড. কামাল হোসেন থাকার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী  ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী অতিসম্প্রতি নিজের একটি ভুলের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘দেখেন, আমি একটা কথা বলেছিলাম। কথাটায় একটা ভুল ছিল, শব্দের ভুল ছিল, শব্দ বিভ্রাট হয়েছে, শব্দ চয়নে ভুল হয়েছে। যদি কেউ সমালোচনা করে তাহলে আমি কী রাষ্ট্রদ্রোহ করেছি? আমি ভুলটা স্বীকারও করেছি, আমি সঙ্গে সঙ্গে তা স্বীকারও করেছি। তার মানে কী? রাষ্ট্র আজ মানসিক রোগাগ্রস্ত হয়ে গেছে। আমরা ভীষণ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের চোখে ছানি পড়ে গেছে। আমরা আসল জিনিসটা দেখছি না। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি। গণতন্ত্র শুধু বক্তৃতায় না, গণতন্ত্র হলো চিন্তাতে, মননে, আমাদের কথা-বার্তায়, সংসদে—সব জায়গাতে। সংখ্যা দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। গণতন্ত্র হতে হবে সর্বত্র। গণতন্ত্র অর্থ কথা বলতে পারা। যেখানে মানুষ কথা বলতে পারে না সেখানে গণতন্ত্র নেই।’

দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণ ঘটাতে ঐক্যের বিকল্প নেই মন্তব্য করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছি। একটা মাত্র পথ খোলা, গণতন্ত্র যদি চান, শান্তির বাংলাদেশ যদি চান, কল্যাণকর বাংলাদেশ যদি চান তাহলে আপনারা সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দেন, সবাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা হারলে তাঁকে জেলে যেতে হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা। তিনি বলেন, ‘তাঁর (শেখ হাসিনার) যথাযথ বিচার হবে, তিনি জামিন পাবেন। খালেদা জিয়ার ওপরে যে অন্যায় অত্যাচার হচ্ছে তেমন অত্যাচার তাঁর (শেখ হাসিনার) ওপরে হবে না। একই জিনিস যদি পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দেশে শান্তি আসবে কোথা থেকে?’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আজকে যেটা হচ্ছে এটা ভয়াবহ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যে শাসনতন্ত্র—এটা নির্বাসনে দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে এটা প্রয়োগ করা হবে না। দেখেন, অন্ধ রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা আজকে বিভক্ত হয়ে গেছি। কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ বিএনপি করবে। ঠিক আছে দলীয় রাজনীতি আপনারা করেন। কিন্তু ভোটটা ও নির্বাচনটা এটা সবার। আপনি অবাধ নির্বাচন দেবেন না, তাহলে ভোটটা প্যাকেটে করে দেবে নাকি! এ জন্য এই অবস্থার পরিবর্তন অবশ্যই করতে হবে।’

জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সমালোচনা করে মইনুল হোসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু জাফরুল্লাহ সাহেব একটা ভুল করেছে, ক্ষমাও চেয়েছে। এর পর যা হলো, আমি নিশ্চয়ই বিশ্বাস করি না এটা আর্মি চিফের চিন্তাভাবনা। এটা একটা স্বাধীন দেশ। ঠিক আছে একটা ভুলভ্রান্তি তো হতেই পারে। সে জন্য দেশদ্রোহী মামলা দিতে হবে, এটা কী কথা? কষ্ট লাগে, আজকে মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে গেল।’

নীরুর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সদস্যসচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন, সাবেক ছাত্রনেতা এনামুল হক শহীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সাংবাদিক রিতা রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 



মন্তব্য