kalerkantho


কালোবাজারে ওএমএস পণ্য

অবশেষে সিএসডির ছয় কর্মী জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের ভর্তুকি দিয়ে খাদ্যশস্য খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ছয় কর্মীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ছয় কর্মী হলেন সিএসডির স্টক ইনচার্জ সুখরঞ্জন হালদার, ইনচার্জ ইউনুছ আলী মণ্ডল, চেকপোস্টের ইনচার্জ সুমন, ডিও শাখার ইনচার্জ কাজী মাহমুদুল হাসান, প্রধান দারোয়ান হারেজ ও দারোয়ান বাবুল।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সিএসডি থেকে পাচার হওয়ার সময় আট ট্রাক এবং মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ১১টি আড়ত থেকে ২১৫ টন চাল, আটা ও গম জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় সিএসডির ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরকে প্রত্যাহার করা হয়। গত ১১ সেপ্টেম্বর ছয় কর্মীসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে র‌্যাব। ১২ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রতিবেদনও দেয় সংশ্লিষ্টরা। তবে এ সময় আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নেন। জামিনে থাকা অবস্থায় তাঁরা তদন্ত কমিটিকে প্রভাবিত করে বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর আসামিদের কোনো বক্তব্য না থাকলেও ২৫ সেপ্টেম্বর রেশনের কয়েকটি ডিও দেখিয়ে জব্দকৃত পণ্য রেশনের বলে দাবি করেন তাঁরা। অন্যতম আসামি ও কালোবাজারি সিন্ডিকেটের হোতা আলমগীর সৈকত সংবাদ সম্মেলনে সব পণ্য রেশনের দাবি করলেও র‌্যাবের অভিযানকারী দল তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করে।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল সিএসডির ছয় কর্মী জামিন আবেদন করলে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আমিনুল হক তা বাতিল করে দেন। জানা গেছে, এই ছয়জনের মধ্যে ইউনুস ও হারেজ এক বছর আগে ওজনে কম দেওয়ার একটি জালিয়াতির ঘটনায়ও অভিযুক্ত। বারবার তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রেহাই পেয়ে যান। এবারও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাঁদের কালোবাজারিতে সরাসরি জড়িত থাকার বেশ কিছু দিক এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

মামলার বাদীপক্ষ, র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন আছে। জেনেছি, আদালত ছয় আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। আমরা বাদীপক্ষ হিসেবে সব তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করব।’

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন— মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের আড়তদার নজরুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, গোলাম কিবরিয়া, ইকবাল হোসেন, সালাউদ্দিন, মিসকাতুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, তৈয়বুর রহমান, হাজী হান্নান, শাহ আলম ও কবির হোসেন, সিএসডির সিবিএ নেতা আলমগীর সৈকত, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুদু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ও সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর, ডিলার নজরুল ইসলাম ও জাকির হোসেন।



মন্তব্য