kalerkantho


কেন্দুয়ায় আলো ছড়াচ্ছে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

হাওরাঞ্চল (নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদুজ্জামান অটিজম ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক প্রতিবন্ধী শিশুর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে নিজেদের সন্তানকে ভর্তি করেন আশান্বিত এলাকার অভিভাবকরাও। তাঁরা এখন আর নিজেদের শিশুদের বোঝা মনে না করে তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকী গ্রামে ২০১৬ সালে ২০ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন ওয়াহেদুজ্জামানের ছেলে মনিরুজ্জামান সোহেল। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য স্বপ্ন দেখান সোহেলের মামা তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া। প্রতিষ্ঠার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ১২০ জন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য আটজন শিক্ষক ও আটজন কর্মচারী রয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র বিশ্বশর্মা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে অটিস্টিক, বাক, শ্রবণ, বুদ্ধি, শারীরিকসহ বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই অনেক মেধাবী। আমরা তাদের যত্নসহ পাঠদান করিয়ে থাকি।’

বিদ্যালয়টির কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একটি মাত্র টিনশেড ঘর রয়েছে। যেখানে রয়েছে চারটি কক্ষ। এর মধ্যে তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয় এবং একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি না থাকায় পাঠদানে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে।

এ বিদ্যালয় থেকে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় দুজন শিক্ষার্থী অংশ নেবে জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। পাশাপাশি চলে সহপাঠ্য কার্যক্রম। তবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য থেরাপির ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের শতভাগ উপবৃত্তি প্রদান ও বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুবিধার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনিরুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘সমাজের সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে তাদের যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মূলত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। প্রতি উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সরকারি করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এই বিদ্যালয়টিও সরকারি হলে শিশুরা আরো উপকৃত হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকতাদিরুল আহমেদ বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। সার্বিক খোঁজখবর রাখছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শিক্ষার্থীদের সরকারি সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য