kalerkantho


‘ঘ’ ইউনিটের ফল বাতিলের দাবি

ছাত্রের অনশনে ছাত্রলীগ ও কোটা আন্দোলনের সংহতি

ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ছাত্রের অনশনে ছাত্রলীগ ও কোটা আন্দোলনের সংহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল করে আবার পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে গতকাল রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনরত আইন বিভাগের ছাত্র আখতার হোসেনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করেছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে তাঁর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

গতকাল বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন পালন করেন আখতার হোসেন। বিকেল ৪টার দিকে রাজু ভাস্কর্যে এসে আখতার হোসেনের সঙ্গে সংহতি জানান ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। এ সময় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, রাশেদ খান, ফারুক হোসেন, বিন ইয়ামিন মোল্লা প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধনের ঘোষণা দেন তাঁরা।

সংহতি জানিয়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরল হক নূর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অভিযোগ স্বীকার করে ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করেছে।

রাত ৮টার দিকে আখতার হোসেনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি আখতারের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সেখানে বসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন করে ছাত্রলীগ আখতারের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আখতারের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের আবেগের জায়গা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় হলে বিন্দুমাত্র ছাড় হবে না।’   

অনশনের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। আখতার হোসেন বলেন, মেধাবীরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কিভাবে থাকবে? পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘সবার ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। কোনো কিছু সঠিক মনে না হলে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। এটি নিয়ে আমাদের কোনো ধরনের আপত্তি নেই। তবে তার কোনো বক্তব্য থাকলে আমাদের লিখিত দিতে পারে।’

পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বুধবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জোটের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করলেও পরীক্ষা বাতিল না করার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত অসম্মানের।

 



মন্তব্য