kalerkantho


হলুদে কান্নার দাগ

বয়স ১৪, তবু আজ বিয়ে

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



গতকাল বুধবার দুপুরে পাশের বাড়িতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে আনন্দের বদলে সহপাঠীর কান্না দেখে ফিরে আসে আরেক সহপাঠী। তাকে অনুরোধ করে বিয়ে বন্ধ করার। এ অবস্থায় নাম গোপন করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেও সহপাঠীর গায়েহলুদের অনুষ্ঠানটির তৎপরতা বন্ধ করতে পারেনি।

সব আয়োজন সম্পন্ন। আজ বৃহস্পতিবার বর এসে কনেকে তুলে নিয়ে যাবে। অথচ কনের বয়স মাত্র ১৪, পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশলী ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামে আজ এ বিয়ে হওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রবিবার কিশোরগঞ্জে গিয়ে নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট করে মেয়েটির বয়স প্রথমে ১৪ বছরের বদলে ১৯ বছর করা হয়। এরপর ছিল ‘কোর্ট ম্যারেজের’ আনুষ্ঠানিকতা, যথারীতি বর-কনের উপস্থিতিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার মুশলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারপাড়া গ্রামের মো. মাসুদ মিয়ার এক মেয়ে স্থানীয় দিলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির সি শাখায় পড়ে। পাশের রায়পাশা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এমদাদের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। গতকাল ছিল গায়েহলুদের অনুষ্ঠান। বিয়ের প্রতিবাদ করতে ওই বাড়িতে যায় কনের সহপাঠী ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কয়েক ছাত্রী। তারা পরিবারের লোকজনকে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যসহ সমাজের অন্যদের এই বিয়ে বন্ধ করতে অনুরোধ করলেও কোনো কাজে আসেনি। এরপর ওই ছাত্রীদের একজন কালের কণ্ঠ’র এ প্রতিনিধিকে ফোন করে বিয়ে বন্ধে সহযোগিতা চায়। যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া আরো বলেন, তিনি কোনো জন্ম নিবন্ধন দেননি। তা ছাড়া এ বিয়ে তিনি সমর্থন করেন না। কিন্তু পরিবারের লোকজন তাঁর কোনো কথা মানছে না। এ অবস্থায় পুলিশ দিয়ে বিয়ে বন্ধ করানোর পরামর্শ দেন। পরে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে কনের বাবা মাসুদ মিয়াকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়ের সকল কাগজপত্র উকিল সাহেব করে দিয়েছেন। আর কোনো ধরনের ঝামেলা নাই।’

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতের আইনজীবী আব্দুল খালেক দাদন নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট করার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘দুই পরিবারের লোকজন এসে অনুনয়-বিনয় করায় কাজটি করতে হয়েছে। কোনো উপায় ছিল না।’

তবে ময়মনসিংহ জেলা জজশিপের সিনিয়র আইনজীবী মো. খালেকুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোর্ট ম্যারেজের কোনো ধরনের বৈধতা নেই। ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখে নোটারি পাবলিক কিংবা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এই কথিত বিয়ে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এটা বিয়ের ঘোষণা মাত্র। অর্থাৎ এ হলফনামার মাধ্যমে বর-কনে নিজেদের মধ্যে আইন অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে—এ বিষয়টি ঘোষণা দেয় মাত্র।’ এ ক্ষেত্রে কারোর বিরুদ্ধে অপকৌশল নেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা তিন হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় ধরনের সাজা হতে পারে বলে তিনি জানান।



মন্তব্য